জাতীয়

বাজেট নিয়ে যা বললেন আমীর খসরু

ঢাকা, ০৪ জুন – ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে নতুন অর্থবছরের (২০২১-২২) বাজেট প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠি নয়, ‘স্বজনতোষণের বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩ মে) জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন।

আমীর খসরু বলেন, যারা হতদরিদ্র, দরিদ্র, দিন আনে দিন খায়, অনানুষ্ঠানিক খাতে যারা কাজ করে, যারা রিকশাওয়ালা, ঠেলা গাড়িওয়ালা, যারা খাওয়া-দাওয়া বিক্রি করে, চা দোকানদারসহ সর্বস্তরের অনানুষ্ঠানিক লোকজন তারা তো বসে গেছে। তাদের জন্য প্রণোদনা বা ক্যাস ট্রান্সফার হয়নি। এই বাজেট স্বজনতোষণের বাজেট। এই সরকার স্বজনতোষণের অর্থনীতি চালু করেছে। এর মাধ্যমে তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স আরও বড় হতে থাকবে।

করোনা মহামারিতে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে দাবি করে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে কম ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশে, শিক্ষা খাতেও কম। তাহলে যাদের জন্য বাজেট তাদের জন্য অর্থের বরাদ্দ বা টাকাটা কোথায়? ১০-২০ হাজার কোটির টাকার কথা তারা বলেন। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, পদ্মা সেতুতে যায় আড়াই হাজার কোটি। এই মুহুর্তে তো এসবের প্রয়োজন নাই।

তিনি বলেন, এই মুহুর্তে বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে তাদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে ওই এক শতাংশ মানুষের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করার জন্য কোনো অর্থনীতি হতে পারে না।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশের ওপরে বরাদ্দ রাখা উচিত ছিল বলে মনে করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার বেশি এখন কমবয়সী। যেটা আমাদের বড় সম্পদ। একে যদি সম্পদ হিসেবে আমরা দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করাতে চাই, তাদের মাধ্যমে যদি আমরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চাই তাহলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ থাকার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি সেই আগের মতোই বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাজেটে।

বাজেট বাস্তবায়ন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেন, এই এপ্রিল মাস পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়ন হয়েছে ২৮ কি ২৯ শতাংশ। প্রত্যেকটা খাতে এরকম অবস্থা। বাংলাদেশ সবচেয়ে কম ব্যয় করছে নিম্ন ও সাধারণ মানুষের জন্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, এক শতাংশ লোকের কাছে ৬০-৭০ শতাংশ সম্পদ আজকে চলে গেছে। অর্থাৎ বাকি ৯৯ শতাংশ মানুষ তারা ক্রমান্বয়ে গরিব থেকে গরিবতর হচ্ছে। ইতোমধ্যে আড়াই কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে, যারা আগে দরিদ্র তাদেরকে বাদ দিয়ে। তাদেরকে যদি যোগ করা হয় তাহলে মোট ৫-৬ কোটি লোক আজকে দরিদ্রসীমায় পৌঁছে গেছে। এদেরকে বরাদ্দ না দিয়ে তারা (সরকার) মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ দিচ্ছে।

সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য যে সহায়তা দিয়েছে তাকে ‘লোক দেখানো’ উল্লে­খ করে তিনি বলেন, যে সমস্ত বরাদ্দ তারা দিয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য। এটা লোক দেখানো। ৫-৬ কোটি মানুষের জন্য মাথাপিছু ১-২শ’ টাকাও পড়বে না। অথচ আমরা বিএনপি থেকে বলেছি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা ক্যাশ ট্রান্সফার করার কথা। সব গণতান্ত্রিক দেশ তাই করছে। কারণ তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি। এই সরকার তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। তাদের তো জনগণের কাছে জবাবদিহি হওয়ার কারণ নেই। সেজন্য দেশে সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব। অপচয়, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সম্পদের একটা বিশাল অংশ এরা (ক্ষমতাসীনরা) লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ০৪ জুন

Back to top button