বিচিত্রতা

যে গ্রামে ভূতের উৎপাত

ভূত অমাবস্যা কালীপুজোর নিশিতে বের হবে ভূত। কিন্তু তার আগে থেকেই ভারতের কুলপি–র রাজারামপুর গ্রামে ভূতের উৎপাতে ভয়ে কাঁটা হয়ে আছে মানুষ। ছোট থেকে বড়, সবার মুখে মুখে ফিরছে এখন ভূতের কথা। কখনও বাঁশ বাগান থেকে বেরিয়ে আসছে ভূত। কখনও আবার গাছের ডালে বসে ভূত পা দোলাচ্ছে। গা ছমছম এই পরিবেশে অনেকে আবার সাহস করে ভূত দেখতে বেরিয়েও আসছেন। আর ভূতের কাছে আসতেই বুঝতে পারছেন এ ভূত খুব ভাল। মানুষের ভয় দেখায় মাত্র।

কে এই ভূত?‌ যার জন্য গ্রামের মানুষ ভয়ে আছেন। আসল রহস্যটা ফাঁস করে দিলেন গ্রামের যুবক গোপাল মণ্ডল। আসলে বছর বিয়াল্লিশের গোপালের সখ বহুরুপী সাজা। এলাকার যেমন খুশি তেমন সাজোতে প্রচুর পুরস্কার আছে গোপালের ঝুলিতে। গঙ্গাসাগর মেলা থেকে কলকাতার নন্দন চত্বরেও গোপালের দেখা মেলে।

রাজা রামমোহন, ফুটবলার গোষ্ঠপাল, রোমের ক্রীতদাসের সাজে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোপাল। যা রাজ্য স্তরেও প্রশংসতি হয়েছে। আর সেই গোপাল এবার কালীপুজোর আগে ভূত সেজে রাতের অন্ধকারে গ্রামঘুরে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এই প্রথমবার ভূত সাজা তাঁর। প্রথম সাজাতেই বাজিমাত। আশেপাশের গ্রাম থেকেও কালীপুজোর দিনগুলিতে ভূত সাজার ডাক আসছে। সবাইকে যাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন গোপাল।

গোপাল দিনমজুর। অভাবের সংসার। বাড়িতে স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে। অভাব নিত্যসঙ্গী। সরকারি সাহায্যের আবেদন করেছেন প্রশাসনের কাছে। গোপাল বলেন, ‘‌অনেক কিছুই তো সেজেছি। এবার কয়েকজন বন্ধুর আবাদারে ভূত সাজলাম। মানুষ তো রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। জানার পর খুব ভাল লেগেছে বলে জানিয়েছে।

আমি সরকারের কাছে আবেদন করব আমাকে লোকশিল্পীর সম্মান দিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।’‌ গোপালের পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রামের মানুষ। তাঁরাও অভিভূত গোপালের ভূতের অভিনয়ে। গ্রামবাসীরাও চাইছে, গোপালকে লোকশিল্পীর সম্মান দেওয়া হোক।

এম এন / ০৪ জুন


Back to top button
🌐 Read in Your Language