ফিলিস্তিনে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল

রামাল্লাহ, ৩১ মে – ইসরায়েলি গুপ্তচররা ফিলিস্তিনে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রামাল্লার সরকারি কর্মকর্তারা। প্রতিদিন রাত ২টার পর ইসরায়েলি সেনারা রামাল্লায় এসে ধরপাকড় চালায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ধরপাকড় শেষ পর্যন্ত হত্যার দিকে মোড় নেয়। এই কাজের জন্য ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী মুসতা’রিবিনকে দায়ী করা হয়।
আল-আমারি শরণার্থী শিবিরে ২৪ বছর বয়সী আহমেদ ফাহাদের জানাজায় অঝোরে কাঁদছিলেন তার মা। ছেলের মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইসরায়েলি গুপ্তচরদের দায়ী করলেন তিনি। ইসরায়েলি গুপ্তচররা গভীর রাতে ফাহাদকে আটক করে। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গুলি করে লাশ রামাল্লার কাছে উম আল শরায়েত এলাকার একটি রাস্তায় ফেলে দিয়ে যায়। মরদেহ দেখে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-আওদা বলেন, ফাহাদকে কাছ থেকে বেশ কয়েকটি গুলি করা হয়েছে।
আহমেদ ফাহাদের বন্ধু সাবরিন আবু লিবদেহ বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের একজন কর্মকর্তা ফাহাদের মৃত্যুর পর তার পরিবারের কাছে ফোন করে ক্ষমা চেয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ফাহাদের ভাই ও চাচার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল শিন বেত। ফাহাদকে হত্যা করার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। তবে ফাহাদের বোন কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশ্ন করেন, মেরে ফেলার পর এভাবে ক্ষমা চাইলে কী লাভ হবে?
রামাল্লার মানবাধিকারকর্মী শাওয়ান জাবারিন বলেন, নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি মুসতা’রিবিন নামে ইসরায়েলি গুপ্ত সংস্থার সদস্যরা ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে যাচ্ছে। গুপ্ত সংস্থার পরিচালিত এসব হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ৯৫ শতাংশ অপ্রয়োজনে হয়ে থাকে। যাদের এভাবে হত্যা করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ আনা হয়।
এ ধরনের সহিংস আচরণের জন্য ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী মুসতা’রিবিন বেশ নাম করেছে। এ সংগঠনের সদস্যরা আরবদের মতো পোশাক পরে এবং আরবি ভাষায় কথা বলে। ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করে যাকে ইচ্ছা তাকে আটক করার ক্ষমতা সংগঠনটিকে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মুসতা’রিবিনের সদস্যরা অপহরণের মতো রাস্তা থেকে ফিলিস্তিনিদের ধরে নিয়ে যায়। তাদের হাত থেকে শিশুরাও নিরাপদ নয়।
এদিকে দীর্ঘ ১২ বছরের রাজত্ব ‘শেষ হতে পারে’ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতা ইয়ার লাপিদ নতুন একটি সরকার গঠন করতে পারলেই নেতানিয়াহুর এক যুগ ধরে চলা প্রধানমন্ত্রিত্বকালের অবসান ঘটবে। নেতানিয়াহু নিজেও এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত দুই বছরে চারটি পার্লামেন্ট নির্বাচন হলেও দেশটিতে কোনো দলই সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদকে নতুন একটি সরকার গঠনে ২৮ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আগামী বুধবার ওই সময়সীমা শেষ হবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সরকার গঠনে সক্ষম, এমন একটি জোট গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন লাপিদ। যদিও এর অনেকটা ঝুলে আছে কট্টর ডানপন্থি ইয়ামিনা পার্টির রাজনীতিক নাফতালি বেনেতের ওপর, পার্লামেন্টে তাদের ছয়টি আসন আছে। নতুন এই জোটে ডানপন্থি, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি দলগুলো থাকবে বলে জানা গেছে। এতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না হলে পার্লামেন্টের আরব সদস্যদের সাহায্য নিতে হবে। পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, লাপিদের এই জোট যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। কারণ এই জোটে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য অনেক বেশি। আর দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে যোজন যোজন ফারাক রয়েছে।
সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ৩১ মে









