মাদারীপুর

সাবেক প্রেমিক ইমনের গলায় প্রথম ছুরি চালায় লাবনী

মাদারীপুর, ২৯ মে– শিবচরের সাবেক প্রেমিক ইমনের কাছে থাক অন্তরঙ্গ ছবি ফেরত না দেওয়ায় তাকে হত্যা করে সাবেক প্রেমিকা লাবনী আক্তার এবং তার বর্তমান প্রেমিক কামরুল। কোমল পানীয়তে নেশাদ্রব্য খাইয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে প্রায় অচেতন করে ইমনের গলায় প্রথম ছুরি চালায় প্রেমিকা লাবনী। পরে তার গলায় আরো দুই দফা ছুরি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে নতুন প্রেমিক মো. কামরুজ্জামান কামরুল। পরে লাশ ফেলে দেওয়া হয় আড়িয়াল খাঁ নদে।

এর আগে ঈদের দিন দেখা করার কথা বলে ডেকে আনা হয় ইমনকে। এ সময় ইমনের সঙ্গে থাকা জামাল নামের অপর একজনকেও নেশাদ্রব্য খাওয়ালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ইমনকে গল্প করার কথা বলে নির্জন চরে নিয়ে যায় লাবনী। সেখানেই তাকে হত্যা করে লাবনী এবং কামরুল। আটককৃত লাবনী এবং কামরুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডে লাবনীর সহযোগী মেহেদীকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গত ১৫ মে মাদারীপুরের শিবচরের চর-বাঁচামারা গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয় ইসমাইল হোসেন ইমনের। ইমন উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের দক্ষিন চরকামার কান্দি গ্রামের সেকান কাজীর ছেলে। এর আগে ঈদের দিন দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ জন তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, ইসমাইল হোসেন ইমন ও লাবনী আক্তার আত্মীয়তার সূত্রে বেয়াই-বেয়াইন। সেই সুত্র ধরে এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। বিয়ের সমঝোতায় উভয়ের মাঝে শারীরিক সম্পর্কও হয়। অন্তরঙ্গ মূহুর্তের বেশকিছু ছবি ও ভিডিও ইমন তার মুঠোফোনে ধারন করে রাখে। ছয় মাস আগে দুজনের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সম্পর্ক ছিন্ন হলেও ইমন ঢাকা থেকে এলেই ওই ভিডিও ও ছবিগুলো ফেসবুকে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাবনীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতেন।

এর মাঝে মো. কামরুজ্জামান কামরুল নামের আরেক যুবকের সাথে লাবনীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও ইমনের কাছে থাকা ছবি ও ভিডিওগুলো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিল লাবনী। ঈদে ইমন এলাকায় এসে আবারো লাবনীকে একই প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি প্রেমিক কামরুলকে জানায় লাবনী। এর পর ইমনকে হত্যা করে তারা।

ইমনকে প্লে-বয় হিসেবে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করে লাবনী। অসংখ্য মেয়ের সঙ্গে ইমনের শারীরিক সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন জানান, এ হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মোবাইলে গোপন ভিডিও ও ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে লাবনী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সাবেক প্রেমিকের গলায় লাবনীই প্রথম ছুরি চালায়। হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে লাবনী যে সকল কৌশল অবলম্বন করেছে তা সত্যি অভিনব।

সূত্র : কালের কণ্ঠ
এম এন / ২৯ মে

Back to top button