মাদারীপুর

ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা আটক

মাদারীপুর, ২৯ মে– মাদারীপুরের শিবচরে ৯ম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এদিকে, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় নির্যাতিতার পিতা অভিযুক্তর হাতে উল্টো মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান নাসির নামের ওই ছাত্রলীগ নেতা উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ওই নির্যাতিতা জানান, প্রায় দেড় মাস আগে নির্বাচনী প্রচার চালাতে নাসির তাদের বাড়িতে গেলে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নাসির তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ মে সকালে বিয়ের কথা বলে নাসিরের তার এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা।

এদিকে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এলাকার মাতবরদের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোনো বিচার পায়নি নির্যাতিতার পরিবার। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত নাসির। বিষয়টি সমাধানের কথা বলে নির্যাতিতার বাবাকে শনিবার মাদারীপুর শহরের একটি আবাসিক হোটেলে ডেকে এনে মারধর করে নাসির। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে সদর মডেল থানা-পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে নাসিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নির্যাতিতা ওই শিক্ষার্থী বলেন, নাসিরের কঠিন বিচার চাই। ওর বিচার না হলে সমাজে মুখ দেখাতে পারব না।

নির্যাতিতার বাবা বলেন, নাসির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও মাদারীপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে জন্য এলাকায় তার খুব প্রভাব। মাতবরদের কাছে বিচার চেয়েও পাইনি। উল্টো নাসিরের হাতে মার খেতে হয়েছে।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, মাদারীপুর সদর থানার ওসি অভিযুক্ত নাসিরকে আটকের কথা মোবাইলে জানান। পরে পুলিশ পাঠিয়ে নাসিরকে শিবচর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নির্যাতিতার বাবা বিকেলে একটি ধর্ষণ মামলা করেছে। রবিবার আমরা আদালতে পাঠাব।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের শিকার একটি মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আমরা তাকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। তার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, একটি ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ শহরের একটি হোটেলে বসেছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নাসিরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত নাসিরকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এম এন / ২৯ মে

Back to top button