শেরপুর

বন্য হাতির নজর পড়েছে লোকালয়ের আম-কাঠালের দিকে (ভিডিও)

এম এ হাকাম হীরা

শেরপুর, ২২ মে– শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ে হাতির তাণ্ডব নতুন কিছু নয়। প্রতি বছর ফসলের মৌসুমে ক্ষুধার তাড়নায় বন্য হাতির দল পাহাড় থেকে নেমে আসে লোকালয়ে। খেয়ে সাবাড় করে ক্ষেতের ফসল। নষ্ট করে বাড়ি ঘর, গাছপালা। প্রতিহত করতে গিয়ে ঘটে প্রাণহানি।

এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত প্রায় এক মাস ধরে পাকা বোরো ধানের ক্ষেতে তাণ্ডব চালানোর পর, এখন বন্য হাতির নজর পড়েছে লোকালয়ের আম কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ফলের দিকে। সন্ধ্যা হতেই হাতি দল লোকালয়ে নেমে এসে সাবাড় করছে আম কাঁঠাল। এলাকার মানুষ মশাল জ্বালিয়ে, বাদ্য বাজনা বাজিয়ে হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদি উপজেলার ভারত সীমানার পূর্ব-পশ্চিম বরাবর গারোপাহাড়। এ পাহাড়ের ১৩ হাজার ৭২২ দশমিক ১৪ একর বনভূমি ঘিরে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। বছরের পর বছর ধরে বন্যহাতির তাণ্ডবে এসব মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

সম্প্রতি নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারি মিশন, দাওধারা কাটাবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, হাতি আর মানুষের যুদ্ধের চিত্র। দিনের বেলায় হাতির দল পাহাড়ের ঢালে অপেক্ষা করছে সূর্য ডোবার। আর এপাশে মশাল, বাদ্যযন্ত্র , পটকা নিয়ে হাতি দলকে তাড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় মানুষ।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার রবিউল ইসলাম জানালেন, গত তিনদিন ধরে হাতির দল তাদের এলাকায় আক্রমণ চালাচ্ছে। আগে সন্ধ্যা নামতেই হাতি দল পাকা বোরো ধানের ক্ষেতে নেমে তাণ্ডব চালাত। এখন ধান কাটা শেষ। তাই হাতি দল বাড়ি ঘরের আম কাঁঠাল খেয়ে সাবাড় করছে।

একই কথা জানালেন বারোমারী মিশনের শিক্ষক ফ্রান্সিস চাম্বুগং, প্রণিলা নেংমিনজা, মোহাম্মদ আলীসহ অনেকেই। তারা বললেন, বৃহস্পতিবার রাতে হিংস্র বন্য হাতির দল মিশনের নিরাপত্তা বেড়া দুমড়ে মুচরে মিশন চত্বরে প্রবেশ করে। সারারাত গাছের আম কাঁঠাল খেয়ে পুকুরে গোসল করে ভোরে চলে যায়।

ট্রাইব্যাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লুইস নেংমিনজা বলেন, আশির দশক থেকে আমরা হাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সরকারিভাবে বড়ই গাছ, এলিফেন্ট রেসপন্স টিম গঠন, বৈদ্যুতিক ফেন্সিং তৈরি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষুধার্ত হাতির কাছে কোনোটাই কার্যকর হয়নি।

জানা যায়, গারো পাহাড়ের হাতিগুলোর মূল আবাস ভারতের পিক পাহাড়ে। সে পাহাড়ের বন ধ্বংস করে রাবার বাগান করার সময় হাতিগুলো দল ছুট হয়ে শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবস্থান নেয়। নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড় খনন করে পাথর উত্তোলনের ফলে গারো পাহাড়ও এখন ক্ষত-বিক্ষত। তাই এখানেও হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পানির ছড়াগুলো।

ফলে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে হাতি দল। তাই ক্ষুধার তাড়নায় হাতি দল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পটকা, মশাল, বাদ্যযন্ত্র দিয়েও হাতিকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হচ্ছে এলাকাবাসী।

গত এক দশকে হাতির আক্রমণে নিহত হয়েছে অর্ধশতাধিক ও আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে শতাধিক মানুষ। বাড়িঘর, ফসল, গাছপালার ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার উপরে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেলেনা পারভীনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, পাহাড় এলাকায় হাতি সমস্যা একটা বড় সমস্যা। এটা দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। প্রস্তাবটি তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবেন বলে জানান।

এম এন / ২২ মে

Back to top button