মাদারীপুর

ঈদের নামাজ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৬

মাদারীপুর, ১৪ মে– আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচরে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিকদারকান্দি গ্রামে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের সবদের আকন কান্দি গ্রামের শিকদার বংশ ও আকন বংশের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। এর মধ্যে মতি হাওলাদার নামের একজন আকন বংশের সমর্থন ছেড়ে শিকদার বংশে যোগ দেয়। শুক্রবার সকালে মতি হাওলাদার আকনদের এলাকা দিয়ে শিকদারদের মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিল। এ সময় সেলিম আকনের নেতৃত্বে মতি হাওলাদারকে শিকদারদের মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া হয় ও তাকে মারধর করে।

এ খবর শিকদার বংশের লোকজনের কাছে পৌছালে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দুলাল বেপারী (৩৫), মনিরুজ্জামান (২২), নাসির বেপারী (৩০), জাহাঙ্গীর খান (৫৩), সেলিম কাজী (৫১), জাহাঙ্গীর বেপারী (৪৯), জলিল উদ্দিন (৫৫), আলতাফ আকন (৬৫), শাহজাহান আকন (৬০), ইলিয়াস আকন (৬২), খলিল আকন (৩৫), লাক্কু আকন (৩০), জয়নাল সরদার (৪৫), রাজিব আকন (২৪), লাক্কু মিয়াসহ (৩৫) উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আমিন শিকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা দাদন আকনদের সঙ্গে ছিলাম। তারা আমাদের লোকজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো। তাই এবার ঈদে আমরা তাদের সমাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য সমাজের নামাজ আদায় করতে যাওয়াতে তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। হামলায় আমাদের লোকজনই বেশি আহত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয় দাদন আকন বলেন, আমিন শিকদাররা আমাদের সমাজ ছেড়ে চলে যাইতে ছিল। আমরা তাদের কাছে টাকা পাব। আমাদর সমাজে যেহেতু তারা থাকবে না, তাই আমি আমার পাওনা টাকা চাইছি। আর এ কারণেই তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, ঈদের নামাজ আদায় করাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আহত কয়েকজন শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মাতায়েন করা আছে। তবে দুপক্ষের কেউ এখনো থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এম এন / ১৪ মে

Back to top button