বেনাপোল দিয়ে ১৪ দিনের জন্য পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত বন্ধ

যশোর, ০১ মে – ভারতফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের কোয়ারেন্টানে রাখার জন্য যশোর শহরের ১৬টি হোটেল রিকুইজিশন করা হয়েছে। স্থান সংকুলন না হলে পার্শ্ববর্তী চার জেলার হোটেলগুলোও রিকুইজিশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় যশোরের হোটেলের মালিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ভারতের নতুন ধরণের করোনা যাতে বাংলাদেশে ছডাতে না পারে সেজন্য স্থলপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত ১৪ দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভারতে আটকেপড়া যাত্রীরা দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, ভারত থেকে যে সংখ্যক পাসপোর্টযাত্রী ফেরত আসার কথা আমরা চিন্তা করছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি লোকজন আসছে। বেনাপোলের হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ এতিমখানা ও মাদ্রাসার ভবনও পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে ২০২ জনকে রাখা হয়েছে। যে কারণে ভারত থেকে ফেরত আসাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে যশোর শহরের হোটেলগুলো রিকুইজিশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হোটেলের মালিকগণ স্বল্পমূল্যে পাসপোর্ট যাত্রীদের রাখতে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া এসব হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ফেরত আসার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যে কারণে যশোর শহরের হোটেলগুলোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলার হোটেল গুলোতেও তাদের রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফেরত আসাদের দেখভালের বিষয়টি দেখছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসান। বিস্তারিত তিনি বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত বলে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে এনডিসি কেএম মামুনুর রশিদ বিকেল শুক্রবার ৫টার দিকে জানান, এখন পর্যন্ত ১৬টি হোটেল রিকুইজিশন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর আইসিটি পার্কের থ্রি-স্টার মানের হোটেল, জাবের ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্লাজা, হোটেল ম্যাগপাই, হোটেল আর এস, হোটেল মনিহার, হোটেল ম্যাক্স, হোটেল সোনালী, সিটি হোটেল, হোটেল শাহরিয়ার, হোটেল বলাকা, হোটেল নয়ন, হোটেল নিউ ওয়ে, হোটেল প্রিন্স, হোটেল সিটি, যশোর হোটেল রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে যশোরের নয়ন হোটেল ৩৭ জনকে, হাসান ইন্টারন্যাশনালে ৪৪ জনকে, হোটেল ম্যাগপাই ১৭ জন, আরএস হোটেলে ৭ জন, হোটেল ম্যাক্সে ১১ জন, শেখ হাসিনা আইটি পার্ক হোটেল ৬ জনকে রাখা হয়েছে।
এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেখ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, যেসব স্থানে ভারতফেরত যাত্রীদের রাখা হয়েছে, সেসকল স্থানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। ১৪ দিন অবস্থানের পর করোনা নেগেটিভ সনদপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব যাত্রীদের নিজ বাড়ির উদ্দেশে যেতে দেয়া হবে।
অন্যদিকে ভারতের নতুন ধরণের করোনা যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য স্থলপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতাযাত ১৪ দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভারতে আটকে পড়া যাত্রীরা দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন। ফেরত আসাদের বেনাপোলের সাতটি আবাসিক হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। তারা ভারতে গিয়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। তবে, নতুন করে এ পথে কোনও পাসপোর্টধারী ভারত ও বাংলাদেশে ঢোকেননি।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানান, বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনারের ছাড়পত্র থাকায় নিষেধাজ্ঞার পর থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত তিন দিনে ভারতে আটকে পড়া ৬৮৯ জন বাংলাদেশি বেনাপোল স্থলপথ দিয়ে দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ১০৯ যাত্রী।
এদিকে চিকিৎসা শেষে হাতে খরচের টাকা না থাকায় ভারত ফেরত বাংলাদেশিরা নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে অসহায় দিন পার করছেন বলে জানা গেছে। তবে সরকারি নির্দেশনা মানতে তাদের বাধ্য হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার আবু তাহের বলেন, ভারতফেরত বাংলাদেশিরা বেনাপোল বন্দর এলাকার সাতটি আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। সেখানে সব খরচ যাত্রীদের বহন করতে হবে। এছাড়া ফেরত আসা ছয় জন বাংলাদেশি করোনা পজিটিভ যাত্রীকে যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর থেকে বাংলাদেশি কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রী নতুন করে ভারতে যায়নি এবং ভারত থেকেও কেউ বাংলাদেশে আসেনি।
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০১ মে









