রংপুরে সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৪

রংপুর, ১৬ এপ্রিল – রংপুরে মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সংঘর্ষে নাজমুল হক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও দু’জন। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে হারাগাছ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানটারী সারাই জুম্মাপড়া জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ভেল্লু মিয়া (৫২), তার স্ত্রী স্বপ্না (৪২) ও দুই ছেলে রিপন মিয়া (১৮) এবং জীবন মিয়াকে (১৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মসজিদের কমিটি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রেষারেষি চলছিল। মসজিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন কমিটির সদস্যরা মুসল্লিসহ স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন। এর মধ্যে টাকার ২০ শতাংশ টাকা আদায়কারীরা নিতেন। এই ২০ শতাংশ টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর নতুন কমিটির সদস্য আব্দুল বারী ভেল্লুর (৫০) সঙ্গে পুরাতন কমিটির সদস্য নুর আলমের ভাই দয়ালের বাকবিতণ্ডা হয়।
আরও পড়ুন : গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ সদস্য নিহত
পরে মাগরিবের নামাজ শেষে আবারও দুইপক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সাধারণ মুসল্লিরা তাদেরকে শান্ত করেন। পরে মসজিদ থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ভেল্লুর দুই ছেলে রিপন ও লিয়নসহ কয়েকজন মিলে দয়াল ও তার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান।
এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দয়ালের ভগ্নিপতি হারাগাছ পৌরসভার সৎবাজার এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে নাজমুল হকসহ (৪৫), নূর আলম ও দয়াল আহত হন। পরে নাজমুল ও দয়ালকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান নাজমুল। এছাড়া আহত নূর আলমকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, নিহত নাজমুলের বাড়ি সৎবাজার হলেও তিনি চেয়ারম্যানটারী এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
হারাগাছ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভেল্লু, তার স্ত্রী স্বপ্না এবং দুই ছেলে রিপন এবং লিয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ১৬ এপ্রিল









