সচেতনতা

কোভিড ১৯ ধেয়ে আসছে সবাই সতর্ক থাকুন

সুমাইয়া মোয়াজ্জেম

টরন্টো র হাসপাতাল গুলো এখন আবার করোনা তে ভরে গেছে। আইসিঊ তে কোনো বেড নাই. এবারের থার্ড ওয়েভ এ রুগী গুলো আরো করুন ভাবে,আরো গুরুতর ভাবে অসুস্থ। কারণ এবারের ওয়েভ করোনা নানা রকম ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা । এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট হলো সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট। এটাতে রোগী রা খুব দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে আর মরণোপন্ন ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই ভ্যারিয়েন্ট গুলো ছড়াচ্ছেও খুব দ্রুত। সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট কোনো বয়স মানছেনা।

বয়স্ক দের থেকে যুবক বয়সের রুগী রাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে আর অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। আইসিঊ গুলো র করুন চিত্র গুলো আর সহ্য হওয়ার মতো না এখন. অনেক হাসপাতাল এ ছোট আকারে নতুন আইসিঊ খুলছে রোগী র সংখ্যার সাথে তাল মিলানোর জন্য। এরকমি এক হাসপাতাল এর COVID আইসিইউ আমার কর্মস্থল। গত ২ সপ্তাহে আমার হাতে বেশ কয়েকজন করোনা রোগী প্রাণ হারিয়েছে। আরো কষ্টের বেপার হলো এই রোগী গুলো রবয়স ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে। এদের কেউ কেউ ইউনিভার্সিটি র ছাত্র ছিল, কেউ ছিল নব্য বিবাহিত, কেউ কেউ ছোট ছোট ছেলে মেয়ে র বাবা বা মা।

হাসপাতাল গুলো তাদের ক্ষমতার বাইরে চেষ্টা করে যাচ্ছে এই পরিস্থিতি সামলাতে, আর হাসপাতাল কর্মী রা মনে হয় নিজের জীবন বাজি রেখে এই করোনা যুদ্ধ করে যাচ্ছে। আমি, সকল স্বাস্থকর্মী র পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমরা কাহিল হয়ে পড়ছি। আমাদের শারীরিক আর মানুষিক শক্তি, দুটাই এখন শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। আমাদের কোনো বন্ধ নাই, ছুটিও নাই.. দিন রাত এই যুদ্ধ চলছে .

বাংলাদেশের চিত্র বর্তমানে আরও ভয়াবহ!

দিন দিন শুধু আক্রান্তের আর মৃত্যু র সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ফেইসবুক খুললেই মৃত্যু সংবাদ। প্রায় প্রতিদিন অন্তত একজন ডাক্তার এর মৃত্যু র খবর পেতে হয়.

দেশ এর বর্তমান করোনা পরিস্থিতি কতটা করুন সেটা জানার জন্য ডাক্তার হওয়া লাগেনা। আপনার আশেপাশে একটু নজর দিলেই দেখবেন কেউ না কেউ স্বজন হারা হচ্ছে ( আগামীকাল আপনিও স্বজন হারা হতে পারেন, আল্লাহ না করুন ) . সুতরাং জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

যেকোনো রকমের পার্টি, দাওয়াত , সামাজিক ভীড় পরিহার করুন জরুরি ভিত্তিতে।

আপনি নিজেও আপনার বাসা র পার্টি, ছাদ পার্টি, পুল পার্টি, বিয়ে ও জন্মদিন পার্টি র আয়োজন করে অন্যদের নিমন্ত্রণ করা বন্ধ করুন। বয়স্ক আত্মীয়স্বজন দেড় স্বাস্থ এবং নিরাপত্তা র দিকে খেয়াল রাখুন। যদি কোনো বিবেকবান আত্মীয় বা বন্ধু আপনার সোশ্যাল গ্যাদারিং এ না আসেন, তাকে বা তাদেরকে কটাক্ষ করে কথা শুনানো বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, তারা আপনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছেন।

আপনি যদি নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে পার্টি বা যেকোনো সোশ্যাল গ্যাদারিং করেও থাকেন, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া তে আপনার রোমাঞ্চকর ছবি গুলো দেয়া বন্ধ করুন। মানুষের সচেতনতা কে নষ্ট করবেননা। এটা সম্পূর্ণ আপনার বিবেকহীন বুদ্ধির পরিচয় হবে! আপনি আরো ৫০ জন মানুষের মৃত্যু ডেকে আন্তে পারেননা। আপনি যদি না জেনে থাকেন সেইজন্য জানাচ্ছি, এই কঠিন পরিস্থিতিতে আপনার ছবি গুলো কেউ প্রশংসা করবেনা !

মনে রাখবেন, এখানে মানুষ এর জীবন সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। আপনার একদিন এর অবিবেচক আনন্দ উল্লাস কেড়ে নিবে কয়েকটা জীবন। আর সব জীবন ই মূল্যবান। আপনার আসে পাশে একটু সময় নিয়ে তাকালেই দেখবেন মানুষ এর আপনজন হারানোর কষ্ট গুলো। করোনা তে হঠাৎ মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। পার্টি করে যেই সময় আর এনার্জি ব্যায় করছেন , সেটা ব্যায় করূন আপনার সেই বন্ধু বা আত্মীয় র পাশে দাঁড়িয়ে যে এই মাত্র তার প্রিয়জন কে হারালো !

রোজা আসছে। সবাই যেন নিজ নিজ দায়িত্বে সুস্থ থাকি। অসুস্থ হলে হাসপাতাল এ যাওয়ার মতোও অবস্থা নেই এখন.

মাস্ক পরা , নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে চলা , কোনোরকম সামাজিক আয়োজন থেকে দূরে থাকা আপনাকে আর আপনার পরিবার কে সুস্থ রাখবে।

– সুমাইয়া মোয়াজ্জেম, টরন্টো


Back to top button
🌐 Read in Your Language