জানা-অজানা

ইতিহাসের চার দুঃসাহসী অভিযাত্রী

আরফাতুন নাবিলা

পৃথিবীর নতুন দেশ ও মহাদেশ আবিষ্কার করতে বরাবরই উদগ্রীব থাকতেন অতীতের অভিযাত্রীরা। সুযোগ মিললেই মানচিত্র, দুরবিন নিয়ে জাহাজে চেপে বসতেন নতুন আবিষ্কারের নেশায়। তাদের এই অভিযাত্রার কারণেই বিশ্ববাসী জানতে পেরেছেন আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভার্জিনিয়ার মতো এলাকাগুলোর কথা। এমনই চার অভিযাত্রীকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

মার্কো পোলো

ভ্রমণ জগতে ‘দ্য ট্রাভেলস অব মার্কো পোলো’ বইটার নাম বেশ পরিচিত। দুনিয়া ঘুরে বেড়ানো যাদের নেশা, তাদের জন্য এই বইটি অনেক অজানা দ্বার উন্মোচিত করে দেয়। বইটির লেখক মার্কো পোলো একজন ভেনেসিয়ান অনুসন্ধানকারী, যিনি ঘুরেছেন পুরো এশিয়া। পোলোর ভ্রমণের নেশার আগ্রহ জন্মে বাবা নিকোলো পোলো ও চাচা মেফিয়ো পোলোর হাত ধরে। তারা দুজনেই ছিলেন বণিক। ব্যবসার উদ্দেশ্যে নিজ দেশ ছাড়িয়ে বহু দেশ ভ্রমণ করতে হয়েছে তাদের। দেশে ফিরে এসে যতদিনে তারা পোলোকে নিজেদের গল্প শোনাচ্ছেন তখন তিনি ১৫ বছর বয়সী মাতৃহীন এক কিশোর। বাবা ও চাচার সঙ্গে তিনি ১৭ বছর বয়সে দুনিয়া ঘুরতে বের হন। ১২৭১-৯৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপ থেকে এশিয়ায় অসংখ্য জায়গা ভ্রমণ করেছেন। শুরুতে ভেনিস থেকে সমুদ্রপথে সিরিয়ায় যাত্রা শুরু করে আর্মেনিয়া, পারস্য পাড়ি দিয়ে নানা জলবায়ু, মরুপথ, পর্বতমালার নানা জটিল পথ অতিক্রম করে এসে পৌঁছান কুবলাই খানের খাশ রাজ্যের সীমান্তে। নানা কারণে এই সীমান্তে তাদের থাকতে হয় প্রায় এক বছর। এ সময়ে মার্কো প্রায়ই স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে তাদের ভাষা, আচার-আচরণ, সংস্কৃতি আয়ত্ত করে নেন। সম্রাটের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি মিললে সবাই একত্রে সেখানে যান। মার্কোর সঙ্গে কথা বলে ভীষণ ভালো লাগে সম্রাটের। মার্কোকে রাজ্যের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মার্কো পোলো চীন সম্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যান। তিনিই প্রথম ইউরোপীয়, যিনি এশিয়ার দুর্গম অঞ্চলে পা রেখেছেন। এ পর্যায়ে মার্কোর রাজকীয় চাকরির উন্নতি হলে একটি চৈনিক প্রদেশের গভর্নরও হন তিনি। এভাবে অনেক দিন কেটে গেলে মার্কো পরিবার ইতালিতে ফিরে আসতে চাইলে সম্রাট কিছুতেই সে প্রস্তাবে রাজি হলেন না। ১৯৯২ সালে সমুদ্রপথে পারস্য যাওয়ার একটি সুযোগ আসে তাদের সামনে। সমুদ্রপথে চলতে চলতে তারা দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করে জাভা সাগরের ভেতর দিয়ে সুমাত্রা এবং তারপর মালাক্কা প্রণালীর মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে এসে প্রবেশ করেন। তারপর বঙ্গোপসাগরের ভেতর দিয়ে সিংহল (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) হয়ে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এ ঘটনাটি বিশ্বের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা কারণ ‘দ্য ট্রাভেলস অব মার্কো পোলো’ বইটি লেখার ১৭৫ বছর পর কলম্বাস আটলান্টিক সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সমুদ্রপথে ভারতবর্ষ আবিষ্কারের জন্য ইতালিয়ান নাবিক কলম্বাস যাত্রা শুরু করেন মার্কোর লিখে যাওয়া রাস্তা ধরে। পশ্চিম দিকে যাত্রা করলেও প্রায় ছয় মাস ঘুরেও ভারতবর্ষ আবিষ্কারের কোনো কূল-কিনারা পেলেন না তিনি। অবশেষে স্থলভূমির দেখা পেয়ে ভাবলেন এই বুঝি আকাক্সিক্ষত জায়গার সন্ধান মিলল। কিন্তু সেখানে গিয়ে মার্কোর লেখা ভারতবর্ষের সঙ্গে কোনো মিল পেলেন না। কারণ তিনি যে দ্বীপটিতে পৌঁছেছিলেন সেটি ছিল বাহামা। ভারত পৌঁছাতে না পারলেও আমেরিকা নামে নতুন একটি দেশের পরিচয় পাওয়া যায়। কলম্বাসকে আমেরিকা আবিষ্কারের জনক বলা হলেও তিনি কিন্তু মূলত মার্কো পোলোর লেখা বই পড়েই যাত্রা আরম্ভ করেছিলেন। কাজেই আমেরিকা আবিষ্কারের জন্য কলম্বাসের পাশাপাশি মার্কোর অবদানও রয়েছে এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই।

আমেরিগো ভেসপুচি

কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন এ তথ্য আমাদের সবার জানা। তাহলে আমেরিকার নামের সঙ্গে কলম্বাসের নামের মিল না হয়ে আমেরিগো নামের মিল বেশি কেন? এর কারণ হচ্ছে আমেরিকা নামটি রাখা হয়েছে আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে। মার্কো পোলো, ক্রিস্টোফার কলম্বাস বাদে আমেরিগোর নামও ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে স্বর্ণাক্ষরে। আমেরিগো ভেসপুচি ১৪৫১ সালের ৯ মার্চ ইতালির ধনাঢ্য এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে অবশ্য স্প্যানিশ নাগরিক হিসেবেই তার আবির্ভাব ঘটে। ধনী হওয়ার কারণে ইতালি শাসন করা মেদিসি পরিবারের সঙ্গে তাদের বেশ সখ্য ছিল। আমেরিগো অল্প বয়স থেকেই নানা বিষয়ে বই পড়তেন। নতুন দেশ আবিষ্কারের নেশা তাকে পেয়ে বসে মাত্র ২০ বছর বয়সে যখন তিনি রাজা একাদশ লুইয়ের দূত হিসেবে প্যারিসে একটি সংক্ষিপ্ত কূটনৈতিক সফরের সুযোগ পেয়েছিলেন। আমেরিগো সিদ্ধান্ত নেন অজানার সন্ধানে বের হবেন। তবে এ উদ্দেশ্য সফলের বদলে তাকে ব্যবসা শুরু করতে হয়। ব্যবসায়িক চাপে ভ্রমণের চিন্তা তিনি বেমালুম ভুলে যান। ১৪৯০ সালে এক বণিকের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন, যিনি স্বয়ং ক্রিস্টোফার কলম্বাসের জাহাজের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এদিকে কলম্বাস তখন স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। কলম্বাসের নাম শোনার পর থেকে আমেরিগো নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন। ১৪৯৬ সালে প্রথমবার আমেরিগো কলম্বাসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ঠিক এ ঘটনার পর আমেরিগো যখন অভিযাত্রা নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন, তখনই তার ব্যবসা প্রবল লোকসানের মুখে পড়ে। এতে অবশ্য তিনি ভেঙে পড়েননি। তিনি যখন নতুন জায়গায় যাওয়ার ফন্দি করছেন, তখনই জানলেন স্পেনের রাজা ফার্দিনান্দ এবং রানী ইসাবেলা নতুন দেশ আবিষ্কারে ইচ্ছুক অভিযাত্রিকদের পৃষ্ঠপোষক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এবার আর দ্বিতীয় চিন্তা না করে রওনা হলেন স্বপ্নপূরণের পথে।

১৪৯৯ সালে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তরাংশে অভিযানে আমেরিগো আবিষ্কার করেন আমাজন নদী। নদী আবিষ্কারের আগে তিনি যখন ঘন অরণ্যে ঢাকা সে এলাকা বিচরণ করছিলেন তখনো তিনি নিশ্চিত ছিলেন না এটি কোনো নতুন ভূমি হতে পারে। ভারতবর্ষের অনাবিষ্কৃত অংশ ভেবে নদীর একটি উপসাগরের নাম রাখেন গঙ্গা উপসাগর। পর্তুগিজ পতাকা উড়িয়ে দ্বিতীয় অভিযান শুরু করেছিলেন ১৫০১ সালের ১৪ মার্চ। এই অভিযানে আবিষ্কার করেছিলেন রিও ডি জেনেইরো এবং রিও ডি লা প্লাটা নামের দুটি নদী। শুরুতে এগুলোকেও ভারতের অংশ মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন এই দুটিও নতুন মহাদেশ। ইতিহাসের পাতায় দুটি নতুন মহাদেশের আবিষ্কারক হিসেবে নাম গাঁথা হয়ে গেল আমেরিগোর।

আমেরিগোর আগে কলম্বাসসহ অনেকেই আমেরিকায় গিয়েছেন। তবে এই ভূমিকে মহাদেশ হিসেবে দাবি করেছেন কেবল আমেরিগোই। ১৫০৭ সালে ফ্রান্সের একটি পাঠাগারে ‘কসমোগ্রাফি ইন্ট্রোডাকশিও’ নামে একটি মানচিত্রের বইয়ের সন্ধান মেলে। বইটিতে কলম্বাস, আমেরিগোর আবিষ্কৃত মহাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ বেশ সূক্ষ্মভাবে চিহ্নিত ছিল। বইটির প্রধান নকশাকার মার্টিন ভাল্ডজিমুলার নতুন মহাদেশের দক্ষিণাংশের নাম আমেরিকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। এর প্রায় এক দশক পর মার্কাটর নামে এক মানচিত্রকার তার নকশাতে উত্তর ও দক্ষিণ দুই অংশের নামকরণে আমেরিকা শব্দটি ব্যবহার করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে আমেরিকা নামটি ছড়িয়ে যায় সবখানে।

জেমস কুক

নাবিকদের স্কার্ভির কবল থেকে রক্ষা করতে ভিটামিন সি’র আবিষ্কার করেছিলেন ক্যাপ্টেন জেমস কুক। ভাবছেন, এজন্যই কি তার নাম বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত? শুধু এই কারণে নয়, কুক পরিচিত অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের জন্য। ১৭২৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের কাউন্টিতে স্কটিশ দিনমজুরের ঘরে জন্ম নেন জেমস কুক। মাত্র ১৭ বছর বয়সে এক মুদি দোকানে কাজ করলেও বেশিদিন সেখানে টিকতে পারেননি। পরে কয়লা শিপিংয়ের কাজে যুক্ত হন হুইটবি অঞ্চলে। কাজের তাগিদে কুককে শিখতে হয়েছিল গণিত ও জাহাজ চালানো। বেশ আগ্রহভরেই কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। কুকের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল মালিকের জাহাজ নিয়ে উত্তর সাগরে ভ্রমণ করা। এই এলাকার দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ তার নাবিকের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ব্রিটিশ নৌবাহিনীতে যোগদানের কিছুদিন পর সমুদ্রে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োগ হয় কুকের। সপ্তবর্ষী যুদ্ধ চলাকালে তিনি বিক্সে উপসাগর অঞ্চলে বন্দি জাহাজের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এই যুদ্ধের মধ্যেই অংশগ্রহণ করেন লুইবোর্গ অবরোধ অভিযান, তৎকালীন ইল রয়্যাল এবং কুইবেক সমুদ্র যুদ্ধে। এ সময় তিনি মানচিত্র আঁকা শিখে নিয়েছিলেন নিখুঁতভাবে।

নতুনের প্রতি নেশা কুকের বরাবরই ছিল। তাই তো গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেও তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। তাই তো ১৭৬৮ সালের আগস্ট মাসে যখন একদল বিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিদ, জ্যোতির্বিদ ও চিত্রশিল্পী তাহিতি দ্বীপে নোঙর করে, সে দলের ভিড়ে কুক চলে যান নিজের অভিযানে। দক্ষিণ মহাদেশ আবিষ্কার করতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের কয়েকটি দ্বীপ আবিষ্কার করে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে আবিষ্কৃত এই নতুন মহাদেশ অঙ্কিত করে ফেলেন মানচিত্রে। তবে সরাসরি নিউজিল্যান্ড আবিষ্কারের আগে তাসমানিয়াসহ বেশ কয়েকটি দ্বীপের আবিষ্কার হয়েছিল আগেই। নিউজিল্যান্ডের জরিপ শেষে অস্ট্রেলিয়া উপকূল ঘেঁষে জাহাজ চালাতে চালাতে আবিষ্কার করেন ওশেনিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দ্বীপ অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল। এ জন্যই জেমস কুক পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার আবিষ্কারক হিসেবে।

স্যার ওয়াল্টার র‌্যালি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ার নাম সবাই জানেন। বর্তমানে উত্তর ক্যারোলিনা অঞ্চলের উপকূলে রোয়ানোকের কাছে এই উপনিবেশ স্থাপনের যিনি চেষ্টা করেছিলেন, তার নাম স্যার ওয়াল্টার র‌্যালি। কেন এই নামকরণ আর কীভাবেই বা এই উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিল? র‌্যালির জন্ম-সময় নিয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইতিহাসবিদদের মতে, খুব সম্ভবত ১৫৫২ বা ১৫৫৪ সালে তার জন্ম ইংল্যান্ডের ডেভনে। অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার আরও পরিচিতি ছিল ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ও অনুসন্ধানকারী হিসেবে। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম হওয়ায় সচ্ছলতার মধ্যেই জীবন পার করেছেন। অক্সফোর্ডের ওরিয়েল কলেজে ভর্তি হলেও পড়ালেখার পাট না চুকিয়েই চলে আসেন ফ্রান্সে। ধারণা করা হয়, সে সময় প্যারিসসহ ফ্রান্সজুড়ে যে মর্মান্তিক সেন্ট বার্থেলোমেউ গণহত্যা চলছিল তার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। ফ্রান্সে এসে পরিবার থেকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন র‌্যালি। সৎভাই হামফ্রে গিলবার্টের সঙ্গে বাণিজ্যিক অভিযানে বের হন। কিন্তু পরপর দুটি অভিযানে ব্যর্থ হওয়ায় গিলবার্ট আর কাজ করতে পারলেন না। ভবঘুরে হয়ে ঘুরতে ঘুরতে লন্ডনের নানা দ্বন্দ্বযুদ্ধে অংশ নিতে লাগলেন। বেশ কয়েক রাত জেলে কাটালেও দ্বন্দ্বযুদ্ধের কারণে নজরে পড়েন রানী এলিজাবেথের খুব কাছের মানুষ লিচেস্টার ডাডলির। দ্বন্দ্বযুদ্ধ ছাড়াও বিদ্রোহীদের দমন করতেও তার জুড়ি মেলা ভার ছিল। ৫০০ ইতালিয়ান এবং স্প্যানিশ সৈন্যের মুন্ডুচ্ছেদ করে বিদ্রোহকে চিরতরে মাটিচাপা দেওয়ায় পুরস্কারস্বরূপ হয়ে ওঠেন ৪০ হাজার একর জমির ‘ল্যান্ডলর্ড’।

ক্ষমতা যেন র‌্যালির হাতের মুঠোয় এসে ধরা দিল। রানীর আদেশে আমেরিকার যেকোনো স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করার ক্ষমতা লাভ করেন তিনি। সেসব এলাকায় যদি সোনা বা রুপার খনি পাওয়া যায় তবে তার এক-পঞ্চমাংশের মালিকও র‌্যালি হবেন। এ সুযোগ লুফে নিতে দেরি করেননি র‌্যালি। দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় উপনিবেশ স্থাপন করে ফেলেন। আয়ারল্যান্ডে র‌্যালির কোম্পানি ভেঙে গেলে ইংল্যান্ডে ফেরার আগেই সেখানে তিনি প্রচুর সংখ্যক চার্চ স্থাপন করেন। আর এ কারণে স্বয়ং রানীর কাছ থেকে পান ‘নাইট’ উপাধি। আয়ারল্যান্ডে বিশাল জমিদারি, নাইট উপাধি, উপনিবেশ স্থাপনের ক্ষমতা ছাড়াও রানীর কাছ থেকে র‌্যালি অন্তত পাঁচটি বাড়ি উপহার হিসেবে পেয়েছেন। রানীর কাছে র‌্যালির কৃতজ্ঞতার শেষ নেই এটা র‌্যালি নিজেও জানতেন। ভবঘুরে একটি ছেলেকে যেভাবে তিনি বাঁচার পথ দেখিয়েছেন, অজস্র সম্মান আর ক্ষমতা দিয়েছেন, তাতে করে র‌্যালি তার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ ছিলেন এ কথা বলাবাহুল্য। রানীর খুব কাছের মানুষ ছিলেন বলেই উত্তর আমেরিকায় প্রথম দিকে যখন উপনিবেশ স্থাপন করতে চেয়েছিলেন তখন রানী তাকে চাকরি ছেড়ে যেতে নিষেধ করেছিলেন। ১৫৮৫-৮৮ সালের মধ্যে আটলান্টিক জুড়ে বেশ কয়েকটি অভিযানে বিনিয়োগ করেছিলেন র‌্যালি। বর্তমানে উত্তর ক্যারোলিনা অঞ্চলের উপকূলে রোয়ানোকের কাছে ভার্জিনিয়া নামের যে উপনিবেশ তার নামকরণ র‌্যালি করেছিলেন কুমারী রানী এলিজাবেথের সম্মানেই। কবি ও লেখক হিসেবেও পরিচিতি ছিল র‌্যালির। ‘দ্য হিস্টোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য ডিসকোভারি অব গায়ানা’ নামে দুটো বই এবং ‘দ্য অ্যাডভাইস’, ‘এপিটাফ অন স্যার ফিলিপ সিডনি’, ‘দ্য এক্সকিউজ’, ‘ফলস লাভ’সহ বেশ কয়েকটি কবিতারও রচয়িতা তিনি।

এম এন / ১৬ অক্টোবর


Back to top button
🌐 Read in Your Language