ইতালি

ইতালিতে হকির মাঠ মাতাচ্ছেন এক বাংলাদেশি

রফিকুল ইসলাম

রোম, ৩০ মার্চ – করোনাভাইরাসের কারণে আপতত বন্ধ আন্তর্জাতিক হকির সব প্রতিযোগিতার দরজা। পেছাতে পেছাতে এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ হকি চলে গেছে জুলাইয়ে। সর্বশেষ ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ১ থেকে ১০ জুলাই ঢাকায় হওয়ার কথা এই টুর্নামেন্ট।

করোনাভাইরাসের কারণে অনুশীলনও বন্ধ। এই সুযোগে যুব দলের মিডফিল্ডার প্রিন্স লাল সমুন্দ খেলতে গেছেন ইউরোপে, মাতাচ্ছেন ইতালির মাঠ। দেশটির পিস্তোইয়া শহরে দল পিস্তোইয়া হকি ক্লাবের হয়ে খেলছেন ইতালিয়া সিরি এ-২ চ্যাম্পিয়নশিপে।

আরও পড়ুন : রোমে ১ প্রতিষ্ঠান ও ৫ প্রবাসী পেল রেমিট্যান্স পুরস্কার

পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারের প্রিন্স বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বেরিয়েছেন ২০১৯ সালে। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের জার্সিতে ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক প্রিন্সের, ২০১৮ সালে সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে।

জাতীয় দলের সাবেক কোচ মালয়েশিয়ান গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হকিতে অভিষেক ২০১৮ সালে যুব অলিম্পিকের বাছাইপর্বে। থাইল্যান্ডে যে দলটি অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করেছিল সেই দলে ছিলেন প্রিন্স। পরে অংশ নিয়েছেন আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত যুব অলিম্পিকেও।

পিস্তোইয়া শহরের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ১২টি ক্লাব। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে দলগুলো। শনিবার প্রিন্সদের ক্লাব প্রথম ম্যাচ খেলে ৪-২ গোলে জিতেছে কাসকিউবে ব্রেসিয়ার বিপক্ষে। প্রিন্স লাল দুটি গোলের জোগান দিয়েছেন। ইতালিয়ান কোচ খুব খুশি প্রিন্স লালের খেলায়।

পিস্তোইয়া হকি ক্লাবে তিনজন বিদেশি। প্রিন্স লাল ছাড়া বাকি দুজন উগান্ডার। ‘আমাদের ক্লাবটি ভালো। আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ফাইট দেব। অন্যান্য ক্লাবেও অনেক বিদেশি আছে। আমাদের শুরুটা ভালো হয়েছে। আমি দুটি গোলের জোগান দিয়েছি। একটি ফিল্ড গোল হয়েছে আমার পাস থেকে, পেনাল্টি কর্নার থেকে একটি গোলের উৎস ছিলাম’- ইতালি থেকে বলছিলেন প্রিন্স লাল সমুন্দ।

কীভাবে ইতালির এই ক্লাবে খেলার সুযোগ পেলেন প্রিন্স লাল? ‘জাতীয় দলের সাবেক কোচ মালয়েশিয়া গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তি এখন বিকেএসপির কোচ। তার কাছে ক্লাবটি একজন খেলোয়াড় চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। গোবিনাথন আমার নাম বললে ক্লাবটি যোগাযোগ করে। ছয় মাসের স্পোর্টস ভিসায় আমি ১০ মার্চ ইতালি এসেছি ফেডারেশনের অনুমতি নিয়ে। ক্লাব আমাকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে’- ইতালি থেকে জানান প্রিন্স লাল।

বিদেশের টুর্নামেন্ট খেলছেন একজন বাংলাদেশি। স্বাভাবিকভাবেই সবার কৌতূহল পারিশ্রমিক কেমন? মজার বিষয় হলো টুর্নামেন্ট শেষে কী পারিশ্রমিক পাবেন সেটা প্রিন্স লাল নিজেও জানেন না।

কেন? ‘আমার কাছে খেলাটাই বড়। গোবিনাথন বলেন, টুর্নামেন্ট শেষে ক্লাব যা দেয় তাই নিয়ে চলে আসবা। আমিও সেটা মনে করি। কারণ, এখন দেশে ক্যাম্প বন্ধ। এ সময়ে খেলার সুযোগ পেয়েছি সেটাই বড় কথা। আমি এখানে খেলে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করবো সেটা কাজে লাগবে অনূর্ধ্ব-২১ এশিয়া কাপে। আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া এবং স্থানীয় সব সুযোগ-সুবিধা ক্লাব দিচ্ছে আমাকে। প্রথম ম্যাচ খেলার পর কোচ আমার পিঠ চাপড়িয়েছেন। আমার লক্ষ্য সব ম্যাচে ভালো খেলা এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন ফাইটে রাখা’- পারিশ্রমিক নিয়ে বললেন প্রিন্স লাল সমুন্দ।

বিদেশের ঘরোয়া হকিতে প্রথম। তাও আবার ইউরোপের দেশ ইতালিতে। কেমন লাগছে নতুন এ অভিজ্ঞতা এবং কী পার্থক্য বাংলাদেশ ও ইতালির হকিতে? প্রিন্স লাল অনেক পার্থক্যই দেখছেন- ‘এদের খেলায় স্পিড অনেক বেশি। আমরা বল রিসিভ করে ভাবি কোন দিকে কাকে পাস দেব; কিন্তু এখানে বল কাছে আসার আগেই ভেবে রাখে বলটি কোথায় কাকে দিতে হবে। যে কারণে খেলার গতি বেশি থাকে।’

অনূর্ধ্ব-২১ দলের কোচ মামুনুর রশীদ মিডফিল্ডার প্রিন্স লালের ইতালিতে খেলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা খুবই ভালো খবর। প্রিন্স অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়। তার বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা অবশ্যই দেশের হকিতে কাজে লাগবে।’

প্রিন্স লাল সমুন্দরা দুই ভাই ও এক বোন। সবার বড় বোনের বিয়ে দিয়েছেন। বড় ভাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন। বাবার চাকরি বিসিকে (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প)। মা গৃহিণী।

এন এইচ, ৩০ মার্চ

Back to top button