জাতীয়

পদত্যাগের ঘোষণা হেফাজতের আমির আবদুল আউয়ালের

নারায়ণগঞ্জ, ৩০ মার্চ – হরতালে সহিংসতায় ক্ষুব্ধ হয়ে হেফাজতে ইসলামের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল।

সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় রেলওয়ে জামে মসজিদের শবে বরাতের বয়ানে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি আর হেফাজতের সঙ্গে থাকবেন না।

হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আমির আবদুল আউয়াল রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব। তাঁর বয়ানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর নিয়ে তুমুল আলোচনাও চলেছ।

আরও পড়ুন : স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মাদের উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

বিষয়টি নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার দুইবার আবদুল আউয়ালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর খাদেম মাহাদী হাসান তা ধরেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (আবদুল আউয়াল) ব্যস্ত আছেন, এখন কথা বলতে পারবেন না।’ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো চাপ নেই। তিনি নিজে থেকে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ২৭ মার্চ হরতাল ডেকেছিল হেফাজতে ইসলাম। ওই কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশ সহিংসতা হয়। হরতালকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেকে আহতও হন।
এই সহিংসতায় ক্ষোভ জানিয়ে সংগঠনটির অন্যতম নায়েবে আমির বয়ানে বলেন, ‘হরতালের দিন সকালে আমাকে মসজিদের ভেতরে আটকানো হয়েছে। তাঁরা (র‍্যাব–পুলিশ) আমাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওপর থেকে সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়ার অর্ডার রয়েছে। আমাদের তো অস্ত্র নাই, আমরা কি তাদের সঙ্গে পারি? পরে খবরে বলতে শুনেছি, শিমরাইলে ১৭টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। কারা পুড়িয়েছে তা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কিছু সন্ত্রাসী লোকেরা পুড়িয়েছে, অথচ আমাদের ছাত্ররা কেউ নাই। এখন তাঁরা (পুলিশ) বলতেছে, আপনি যদি আমাদের কথা না শুনতেন, এই সবগুলো মামলা আপনার নামে হইত।’

আবদুল আউয়াল বলেন, ‘তাঁরাও (পুলিশ) আমাদের বুঝতেছে না, আমাদের (হেফাজত) অতি উৎসাহী লোকেরাও আমাদের বুঝতে চাইছে না। তাঁরা বলতেছে, হুজুর তাদের কমান্ড ভেঙে বের হয়ে গেল না কেন? আমি আর তোমাদের হেফাজতের সাথে থাকব না, আমি মসজিদে থাকব। তোমরা যারা অতি উৎসাহী আছ, তোমরা করো। আমি তোমাদের সাথে থাকব না। এখন আমার বার্ধক্য বয়স, অসুস্থ মানুষ দাঁড়াইতে পারি না, হাঁটতে পারি না। তাই আমি হেফাজতের নেতৃত্ব আর দিব না, কোনো আন্দোলনেও যাব না।

‘হেফাজতের আমির থাকব না, একজন মুসলমান হিসেবে সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকব। আমি আমার জিম্মাদারি ছেড়ে দিলাম। আমি হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বে আর থাকব না। কোনো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিব না। আমার পক্ষ থেকে আর কোনো ঘোষণা আসবে না। অব্যাহতি দিয়ে দিলাম।’

তাঁর এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কোনো নেতার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র : প্রথম আলো
এন এইচ, ৩০ মার্চ

Back to top button