ইসলাম

যে কারণে মহিমান্বিত রজনীর নাম ‘শবে বরাত’

‘শবে বরাত’ কথাটি ফারসি শব্দ। আরবিতে যাকে বলা হয় হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’। হাদিস শরিফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা ‘শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী’ বলা হয়েছে।

আরব বিশ্বে এই দিনটি পালনের তেমন উৎসাহ দেখা না গেলেও ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরান, আফগানিস্তানে দিনটি ‘শবে বরাত’ নামেই অধিক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়।

কুরআনে সুরা দুখানের ১ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হা-মিম! শপথ! উজ্জ্বল কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি ছিলাম সতর্ককারী। যাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয়ই আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি।’ মুফাসসিরিনগণ মনে করেন, এখানে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রজনী বলে শাবান মাসে পূর্ণিমা রাতকেই বোঝানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : আজ পবিত্র শবে বরাত

এছাড়া হাদিস শরিফে আছে, ‘হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে তার মাখলুকাতের জন্য রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’

এ বিষয়টি প্রমাণ করতে বেশি কিছু হাদিস রয়েছে যেমন, ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫, ইবনে মাজাহ: ১৩৯০, রাজিন: ২০৪৮; ইবনে খুজাইমা, কিতাবুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা: ১৩৬, মুসনাদে আহমদ, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৬।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ বলেন, আমাদের দেশে শবে বরাত নামে এই দিনটি পালনের অন্যতম কারণ হচ্ছে, এই অঞ্চলে ইসলাম এসেছে পারস্য অঞ্চলের লোকদের মাধ্যমে। এছাড়া উপমহাদেশ যেসব বাদশাহ শাসন করেছেন তারাও ফার্সি ভাষাভাষীর লোক ছিলেন।

তিনি বলেন, হাদিসে শবে বরাতের কথা উল্লেখ আছে। বুখারি বা সিহাহ সিত্তাহরি মতো হাদিসে নেই। কিন্তু সিহাহ সিত্তাহর বাইরেও অনেক সহিহ হাদিস রয়েছে। যারা সালাফি বা আহলে হাদিস নামে পরিচিত তারা শবে বরাত মানেন না। কিন্তু হানাফি মাজহাব সহ আর মাজহারের লোকেরা শবে বরাত পালন করেন।

হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ালেন, সিজদায় এতোটা সময় পার করলেন যে আমার ধারণা হলো তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি উঠে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম, তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল; তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে বললেন, তোমার কি আশঙ্কা হয়েছে?” আমি উত্তরে বললাম, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না।’ উত্তরে নবীজি (সা.) বললেন, ‘তুমি কি জানো এটা কোন রাত?’ আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলই ভালো জানেন।’ তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।’ (শুআবুল ইমান, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮২)।

এন এইচ, ২৯ মার্চ

Back to top button