এশিয়া

বাবার কোলে বসে থাকা শিশুকে গুলি করে হত্যা করল মিয়ানামার সেনারা

নেপিডো, ২৪ মার্চ – মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাতবছরের এক কন্যা শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গতমাসের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত জানা-শোনার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগী।

নিহত মেয়েটির পরিবার বলছে, সে তার বাড়ি মান্দালয় শহরেই হত্যার শিকার হয়েছে। মান্দালয়ের শেষকৃত্যসেবা সংস্থার এক কর্মী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাত বছর বয়সী ওই শিশুটি বুলেটের ক্ষতের কারণেই মারা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাও নিজেদের প্রতিবেদনে বলছে, সেনারা মেয়েটির বাবাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়েছিলেন। কিন্তু সেটি তার পরিবর্তে ওই শিশুটিকে আঘাত করে। কারণ বাড়ির ভেতরে বাবার কোলে বসে ছিল শিশুটি।

নিহত শিশুটির নাম খিন মিও চিত। ত্রাণকর্মীরা বলছেন, উদ্ধারকারী দল তাকে দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় নিয়ে এলেও শেষপর্যন্ত আর বাঁচাতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মেয়েটির ১৯ বছর বয়সী ভাইকেও আটক করা হয়েছে। অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সামরিক বাহিনী।

আরও পড়ুন : মিয়ানমারে জান্তা বিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৬১

একটি বিবৃতিতে অধিকার রক্ষা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ওই মেয়েটির মৃত্যুতে তারা আতঙ্কিত। এ ঘটনাটি মান্দালয়ে ১৪ বছর বয়সী আরেক শিশু মারা যাওয়ার পরদিনই ঘটল।

‘এ দুটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। কারণ নিহত হওয়ার সময় তারা বাড়িতেই ছিল, যেখানে তাদের অন্তত সুরক্ষিত থাকার কথা। আসল বিষয়টি হচ্ছে, প্রায় প্রতিদিনই এত শিশু মারা যাচ্ছে যে, বোঝা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর আসলে মানুষের জীবনের প্রতি কোনো সম্মানই নেই’।

সেভ দ্য চিলড্রেন এও বলছে, মিয়ানমারের বিক্ষোভে এ পর্যন্ত যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন শিশু।

এদিকে সামরিক বাহিনী বলছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১৬৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে অধিকার রক্ষা গ্রুপ অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস-এএপিপি-এর দাবি, নিহত সংখ্যা অন্তত ২৬১ জন।

বিক্ষোভে ১৬৪ প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। তবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তারা বিক্ষোভকারীদেরকেইন আবার দায়ী করেছে।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাউ মিন তুন বলেন, সহিসংতা এবং অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মূলত সেনা অভ্যুত্থান-বিরোধী বিক্ষোভই দায়ী।

নোবেলজয়ী নারী অং সান সু চির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত করার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটি চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। অচলাবস্থার মধ্যে পুরো মিয়ানমার। প্রায় ১০ বছরের অস্থায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে পুলিশও গুলি ছুড়ছে। প্রতিদিনই পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারীদের প্রাণ যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মিয়ানমারের জান্তাবাহিনীকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চাপে ফেলার চেষ্টাও করা হচ্ছে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২৪ মার্চ


Back to top button
🌐 Read in Your Language