এবার নিষেধাজ্ঞার কবলে মিন অং হ্লাইংয়ের দুই সন্তান

নেপিডো, ১৩ মার্চ – মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা মিন অং হ্লাইংয়ের দুই সন্তান এবং সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ছয়টি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভ দমনে ক্রমেই সহিংস হয়ে ওঠা সেনা-সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাইডেন প্রশাসনের অর্থবিভাগ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
এদিকে মিয়ানমার বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেনারেল মিনের দুই সন্তান অং পায়ে সোন এবং খিন থিরি থেট মনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পরিচালিত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি অফিসের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (ওএফএসি)।
বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অ্যা অ্যান্ড এম মাহার কোম্পানি লিমিটেড, স্কাই ওয়ান কনস্ট্রাকশন, দ্য ইয়াঙ্গুন রেস্টুরেন্ট, ইয়াঙ্গুন গ্যালারি এবং এভারফিট কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবং বাবার নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রভাব খাটাতেন অং পায়ে সোন এবং খিন থিরি থেট মন।
আরও পড়ুন : মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ৭০ জনকে হত্যা করেছে: জাতিসংঘ
জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর দমন পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা কাউন্সিলের যুক্তরাজ্যের খসড়াকৃত নিন্দা প্রস্তাব এবং হুঁশিয়ারি সম্বলিত বিবৃতি ভারত, রাশিয়া, চীন, এবং ভিয়েতনামের বিরোধিতার কারণে স্থগিত রেখেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস প্রত্যাশা করেছেন, নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতির পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বোধদয় ঘটবে। জান্তা কর্তৃক গ্রেফতারকৃত সব বন্দির মুক্তি দেয়া হবে এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে বলেও প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
মিয়ানমারে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) জয় লাভ করেছে অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী সামরিক অভ্যুত্থানকে বৈধ করার চেষ্টা করছে। যদিও দেশটির নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সেনাবাহিনীর দাবি প্রত্যাখান করেছে।
সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সেনাবাহিনী পুনরায় নির্বাচন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সেনা মুখমাত্র জ মিন তুন পুনরায় নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ দেয়নি সেনাবাহিনী।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এইচ, ১৩ মার্চ









