মালয়েশিয়ায় খ্রিস্টানদের ‘‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

কুয়ালালামপুর, ১২ মার্চ – সৃষ্টিকর্তাকে বোঝাতে মালয়েশিয়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সে দেশের আদালত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক দশকের আইনি লড়াই শেষে বুধবার দেশটির হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছেন। সঙ্গে আরও ৩টি শব্দ ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২০০৮ সালে জিল আয়ারল্যান্ড লরেন্স বিল নামের একজন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে আনা এক মামলায় তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা ধর্ম সংক্রান্ত দলিলে আল্লাহ-র নামের উল্লেখ থাকায় বিষয়টি আদালতের সামনে আসে। ওই মামলার অংশ হিসাবে বিষয়টি আদালতে উত্থাপিত হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের এক নির্দেশনায় মালেয়েশিয়ার খ্রিস্টানদের প্রকাশনায় সৃষ্টিকর্তা হিসেবে ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০০৮ সালেই বিল সেই নির্দেশনার বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। এক দশকেরও বেশি সময় পর বুধবার কুয়ালালামপুর হাই কোর্ট রায় দেন, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বৈষম্যের শিকার না হওয়ার অধিকার ওই নারীর রয়েছে।
আরও পড়ুন : এবার সু চির বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আনল সেনাবাহিনী
বিচারক নর বি ‘আল্লাহ’র পাশাপাশি আরও তিনটি শব্দ খ্রিস্টানরা ব্যবহার করতে পারবে বলে রায় দেন। এগুলো হলো- কাবা, বাইতুল্লাহ ও সালাত। তিনি বলেন, এই চারটি শব্দ ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’।
মালয়েশিয়ায় প্রায় তিনভাগের দুই ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলিম। তবে সেখানে বড় পরিসরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও রয়েছে। সেখানকার অমুসলিমরা অতীতে ‘আল্লাহ’শব্দ ব্যবহার করায় ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি এমনকি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
মালয়েশিয়ার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দাবি, তারা শত শত বছর ধরে সৃষ্টিকর্তা বোঝাতে ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করে আসছে যা আরবি থেকে থেকে মালয় ভাষায় এসেছে। অতীতের নিষেধাজ্ঞাটি তাদের এই শব্দ ব্যবহারের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছিল বলে তাবি করে তারা।
মালয়েশিয়ার সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি দেশটিতে ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১২ মার্চ









