কক্সবাজার

কক্সবাজার সৈকতে বঙ্গবন্ধু

আবদুল আজিজ

কক্সবাজার, ০৭ মার্চ – কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৯ সালে কক্সবাজার সফরের একপর্যায়ে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করেন তিনি। সেই সময়ে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া ঝাউতলার পুরোনো সায়মন হোটেলে তার সম্মানে আয়োজিত ক্যান্ডেল লাইট ডিনারেও অংশ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

সেই ভ্রমণের কিছু দুর্লভ ছবি নিয়ে একটি কর্নার সাজিয়েছে তারকা মানের হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্ট। এ ছাড়া সেই সময়ে অন্তত ১২বার কক্সবাজার সফর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কক্সবাজার সায়মন বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুবুর রহমান জানান, ১৯৬৯ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কক্সবাজার সফরের সময় হোটেল সায়মানে ডিনার করেন এবং সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ওই সময়ে আমার বাবা সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পর তার দুই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাও সায়মন হোটেলে অতিথি হয়ে এসেছিলেন।

কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ জানান, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম ১৯৫৮ সালে কক্সবাজার সফর করেন। সর্বশেষ ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি কক্সবাজার সফর করেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন কারণে ১৩ থেকে ১৪ বার কক্সবাজার এসেছিলেন।

আরও পড়ুন : কক্সবাজারে ট্রাক চাপায় ২ জন নিহত, বহু হতাহতের শঙ্কা

কক্সবাজারকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ জানান, ওই সময়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালুকাময়ে ১০০ একর জমিতে ঝাউগাছ বনায়নের নির্দেশনা দেন বন বিভাগকে। যার কারণে প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষা এবং সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশ্বের এই দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে। বর্তমান সময়ে এসে কক্সবাজার শহরের গুরুত্ব বেড়েছে এবং বিকাশ ঘটেছে পর্যটন শিল্পের।

কক্সবাজারের তরুণ লেখক কালাম আজাদ তার বইয়ে লিখেছেন, স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১২বার কক্সবাজার সফর করেছেন। কক্সবাজারের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা অনবদ্য। বঙ্গবন্ধুর জন্মের শতবর্ষ পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো গবেষণা হয়নি, এ বিষয়ে রচিত হয়নি একটিও স্বতন্ত্র গ্রন্থ। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বুকে নিয়ে কক্সবাজারে এখনো অনেক প্রবীণ ব্যক্তি জীবিত আছেন। আরো বিলম্ব করলে হয়তো তারা সবাই গত হয়ে যাবেন। তাই কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুর আগমন ও অবদানের ইতিহাস সংরক্ষণের এটাই সর্বোচ্চ সময়। আরো দেরি করলে অনেক ইতিহাস হয়তো চলে যাবে ইতিহাসের আড়ালে। তাই কক্সবাজারের একজন সচেতন বাসিন্দা হিসেবে, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজের তাগিদ ও দায়িত্ববোধ থেকেই কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধু বিষয়ে অনুসন্ধানে নামি।

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এন এইচ, ০৭ মার্চ

Back to top button