জাতীয়

আন্দোলনে বাধা দিলে বিকল্প পথ খুঁজবে বিএনপি

ঢাকা, ০৬ মার্চ – রাজপথে আন্দোলনে বাধা দিলে কর্মীরা বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আমাদেরকে আরও সাহস ও শক্তি সঞ্চায় করে বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও নোয়াখালীর বশিরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্থানীয় সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মোজাক্কির হত্যার বিচারের দাবিতে এই সমাবেশ হয়।

এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মৎস্য ভবন, তোপখানা রোড মোড়সহ বিভিন্ন সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল।

এই অবস্থায় পুলিশের ব্যারিকেডে মধ্যেই সকাল ১০টায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশ চলাকালে সংগঠনটির দুই নেতা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের অনুসারীদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে। পরস্পরের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে একজনের মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ এগিয়ে আসলে কর্মীদের দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। পরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মাইক নিয়ে কর্মীদের শান্ত করেন।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এভাবে চলবে না। আপনারা সাহস করে এখানে বসে আছেন, আপনাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমাদেরকে আরও সাহস ও শক্তি সঞ্চায় করতে হবে। এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা একজন একজন করে কোটি জনগণ এক হয়ে একদিন আমরা এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটাব।

আরও পড়ুন : ‘৭ই মার্চের ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে পরিণত হয়েছিল’ : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। কিন্তু আজকে চারিদিকে কত অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন। এত ভয় কিসের। কাকে এত ভয়? সরকারকে বলব, যাকে ভয় পাবেন তাকে গ্রেফতার করে আটকে রেখেছেন (খালেদা জিয়া)। যাকে ভয় পাচ্ছেন, তারেক রহমান প্রবাসে। যাকে ভয় পাচ্ছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, উনি আমাদের মাঝে নেই। আমি বুঝতে পারি না কী জন্য এত ভয়?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক পথ আছে। রাজপথে বাধা দিলে বিকল্প পথ খুঁজতে কর্মীরা বাধ্য হবে। সেই বিকল্প পথে যদি কর্মীরা যায় দেশটার কী অবস্থা হবে এটা সবাইকে ভাবতে হবে। নিরাপত্তা শুধু আমাদের প্রয়োজন না, নিরাপত্তা সবারই প্রয়োজন। এদেশের নিরস্ত্র জনগণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে কাবু করেছে, এদেশে তাদেরকে পরাজিত করে তাদের দেশের মাটিতে ফেরত পাঠিয়েছে। আন্দোলনের মধ্যে কোনো অস্ত্র বা পোশাকের ভয় দেখিয়ে তাদের সত্য কথা থেকে দূরে সরানো যাবে না।

তিনি বলেন, এদেশের নিরস্ত্র জনগণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করেছিল। অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে কখনই সত্য আড়াল করা যাবে না। প্রতিবাদ করতে দিন, গণতন্ত্রকে ফিরে আসতে দিন। গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে স্বৈরতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য প্রশাসন ও পুলিশ জনগণের সেবা বাদ দিয়ে লাঠিচার্জ করছে। এমনটা চলতে থাকলে জনগণ লাঠি কেড়ে নিতে বাধ্য হবে। জনগণের গণতন্ত্র জনগণই ফিরিয়ে আনবে। এখানে মন্ত্র-তন্ত্র কাজে লাগবে না।

বিএনপির স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পুলিশ প্রধানের সাক্ষাতের কথা উল্লে­খ করে গয়েশ্বর বলেন, আইজিপি সাহেব- আপনারা আমাদের সুবর্ণজয়ন্তীর প্রতিনিধি দলের কথাবার্তা হয়েছে। আপনি কী বলেছেন, আপনি বলেন নাই সেটা আপনি জানেন। আমরা কিন্তু সরকারের কাছে যাই না। পুলিশ প্রশাসনকে মনে করি জনগণের জন্য। পুলিশ শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়- এই কথাটা যদি খেয়াল রাখেন। আর যদি মনে করেন মিটিং-মিছিল করতে দেবেন না। তাহলে শেখ হাসিনাকে বলুন, আইন করে সব কিছু বন্ধ করে দিতে। আবার ফিরে আসতে বলুন বাকশালে (একদলীয় শাসন ব্যবস্থা)। সুতরাং এই বাকশাল ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আনু মো. শামীম, নেসারউদ্দিন, এটিএম আবুল কালাম আজাদ, জামাল হোসেন তালুকদার, আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, রফিক হাওলাদার প্রমুখ।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ০৬ মার্চ

Back to top button