জাতীয়

মার্কিন পোশাক বাজারে চীন-ভারতের বড় ধস, শক্ত অবস্থান ধরে রাখল বাংলাদেশ

ঢাকা, ০৮ অক্টোবর – বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আবহ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক আমদানির সার্বিক পতন সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (ওটেক্সা)-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের সামগ্রিক বাজার ৭.৪২ শতাংশ সংকুচিত হলেও, চীন বা ভারতের মতো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বাংলাদেশের পতনের হার ছিল অত্যন্ত কম।

আট মাসের পরিসংখ্যান: চীন-ভারতের ধস, বাংলাদেশের স্বস্তি

ওটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর চিত্র:

বাংলাদেশ: পোশাক আমদানি ৪.৪৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩৯ কোটি ডলারে। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ (Volume) কমেছে ২.৭৫% এবং গড় একক মূল্য (Unit Price) কমেছে ১.৭৩%।

চীন: যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানি কমিয়েছে রেকর্ড ২৯.৩৯ শতাংশ (আমদানির পরিমাণ কমেছে ২১.৬১% এবং গড় মূল্য কমেছে ৯.৯৩%)।

ভারত: ভারতের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬.৪৪ শতাংশ*।

সামগ্রিক বাজারে এই মন্দা সত্ত্বেও চীন ও ভারতের মতো বড় প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও পোশাক রপ্তানিকারকরা।

আগস্টেই দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানো: বেড়েছে ২৫.৬৫% রপ্তানি

বছরের প্রথম আট মাসের সামগ্রিক হিসাবে সাময়িক মন্দার ছাপ থাকলেও, বছরের দ্বিতীয় ভাগে এসে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী:

আগস্ট মাসের চমক: এককভাবে শুধু আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৬৫ শতাংশ বেড়ে ৮১.৭ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

জুলাই-আগস্ট দ্বিমাসিক চিত্র: চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাস মিলিয়ে মার্কিন বাজারে মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৬১ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.৪২% বেশি।

কেন মার্কিন ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ?

বিজিএমইএ-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, চীনসহ বেশ কিছু প্রতিযোগী দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের কারণে মার্কিন ক্রেতারা সোর্সিংয়ের জন্য বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে প্রচলিত সুতি পোশাকেই কেবল সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের শেয়ার আরও বাড়াতে উচ্চমূল্যের পোশাক এবং কৃত্রিম তন্তুর (ম্যান-মেড ফাইবার) তৈরি পোশাকের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

এনএন/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language