মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে মার্কিন হামলার ছক! পেন্টাগনকে প্রস্তুতির নির্দেশ ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ০৮ অক্টোবর – যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সাময়িকী ‘দ্য আটলান্টিক’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পূর্বেই ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরির জন্য হোয়াইট হাউজ থেকে পেন্টাগনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই হামলা? ট্রাম্পের জোড়া রাজনৈতিক হিসাব
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি বড় কৌশলগত ও রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে:
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমিয়ে মার্কিন ভোটারদের স্বস্তি দেওয়া।
ভোটের মাঠে ‘সহজ সাফল্য’ দেখানো: নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার সাফল্য দেখিয়ে ভোটারদের কাছে রাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা অর্জন করা।
হামলার পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা
যদিও পেন্টাগন সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের নকশা ও বিকল্প প্রস্তুত করছে, তবে হামলার চূড়ান্ত পরিধি, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কিংবা আদৌ এই হামলা চালানো হবে কি না—তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে এখনো আলোচনা ও মতভেদ চলছে।
এর আগে একাধিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হবে। তার মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বা ঠিক পরপরই এই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। তবে নতুন করে পেন্টাগনকে হামলার ছক তৈরির নির্দেশ দেওয়ায় গোটা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আকাশছোঁয়া তেল সরবরাহের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
এনএন/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬







