২ কোটি টাকার কমে নড়বো না! চরম ঘুষ কেলেঙ্কারির ভিডিও ভাইরাল: বরখাস্ত পিডিবির বিতর্কিত কর্মকর্তা

লক্ষ্মীপুর, ২৮ সেপ্টেম্বর – আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না! ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো… একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে!”
একটি সরকারি দপ্তরের উচ্চ পদে বসে এভাবে প্রকাশ্য ঘুষ দাবি ও ক্ষমতার দম্ভোক্তির অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের উপপরিচালক-১ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
কী ছিল সেই ভাইরাল ভিডিওতে?
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে প্রকৌশলী নুরুল আমিনের টেবিল বসে নগদ টাকা গ্রহণ এবং ঠিকাদারদের সাথে সংবেদনশীল কথোপকথনের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে:
১. কোটি টাকার কন্ডিশন: ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ৫ কোটি টাকার মাল আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিল পাসের জন্য তাকে সোজা ২ কোটি টাকা দিতে হবে।
২. নগদ অর্থ লেনদেন: ভিডিওর একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে তাকে নগদ টাকা গুনতে দেখা যায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন— “এখানে কত?” উত্তরে এক ব্যক্তি বলেন, “এখানে ৩৫ স্যার।” নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “এক লাখ ৩৫।” ওই ব্যক্তি পুনরায় বলেন, “আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।”
৩. উচ্চপর্যায়কে নিয়ে দম্ভ: কোটি টাকার ঘুষ নিলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও তার বিরুদ্ধে যাবে না এবং তাকে পছন্দমতো পোস্টিং দেবে বলে দম্ভ প্রকাশ করেন তিনি।
পিডিবির আইনি আদেশ ও বরখাস্তের শর্ত
ঘটনাটি গণমাধ্যমে উঠে আসার পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে:
বরখাস্তের আদেশ: ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২’-এর ১৪১ (১) নং বিধির অধীনে তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণাধীন শর্ত: বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী কেবল খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
নেপথ্য তথ্য: ভিডিওটি কবে ও কে ধারণ করল?
স্থানীয় ঠিকাদার ও পিডিবি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি প্রায় দুই বছর আগে পিডিবির লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের ডরমেটরিতে গোপনে ধারণ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া এলাকার বিপ্লব হোসেন নামের এক ঠিকাদার বিল ও কাজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় এটি রেকর্ড করেন। সম্প্রতি এই ভিডিও সংযুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জানানো হলে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর থেকে প্রকৌশলী নুরুল আমিনের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ও নেটিজেনদের দাবি
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। কেবল সাময়িক বরখাস্ত যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সরকারি পদের এমন অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দুদকের মাধ্যমে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এনএন/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







