বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থতা নিয়ে সংসদে তোলপাড় ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের দাবি

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থতাকে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার গুরুতর ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে সংসদে আলোচনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধিতে ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এই সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একই সাথে সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় ছয়টি দেশের পাসপোর্ট পাওয়ার অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি এবং দেশে বিদেশে তার অবৈধ সম্পদ জব্দে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বহু মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর তার জামিনে মুক্তি এবং সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার ঘটনা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় চরম ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ভুক্তভোগীরা অনেক প্রতিশ্রুতি শুনলেও সরকার বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোসহ এ পর্যন্ত নেওয়া সব পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে দিতে হবে। পাশাপাশি এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবিও জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে ভারত ও আরব আমিরাতের সাথে থাকা বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির কার্যকারিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগম বেনজীরের জামিন ও দেশত্যাগ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, রেড অ্যালার্ট জারির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট করা জরুরি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।
এনএন/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







