পশ্চিমবঙ্গে চিনির দামে ব্যাপক বৃদ্ধি: নিয়ন্ত্রণে বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অভিযান

কলকাতা, ২৫ আগস্ট – ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিনির বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৮ রুপি থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৭০ রুপিতে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন চিনির এই দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে। চিনি প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ইসমা দাবি করেছে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আখের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহের তুলনায় চাহিদার আধিক্য দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর বেআইনি মজুতদারিও পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ইথানল উৎপাদন নিয়ে চলমান বিতর্ককেও চিনির মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেট্রোলে ইথানল মেশানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ফলে বড় অঙ্কের চিনি জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের একাংশ দাবি করেছেন।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ায় ভুট্টার মতো দানাশস্যই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও কালোবাজারি রুখতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।
কলকাতার হাতিবাগান এবং গড়িয়াহাট মার্কেটসহ হাওড়া, শিলিগুড়ি, চন্দননগর এবং ব্যারাকপুরের মতো বিভিন্ন এলাকার বাজারে তদারকি চালাচ্ছেন কর্মকর্তারা। মুদি দোকান এবং গোডাউনে মজুতের পরিমাণ এবং ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
হাওড়ার কদমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর শ্রাবণী রায় জানান দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল তৌসিফ আলি আজাহার বলেন সরবরাহ ঘাটতি এবং দাম বৃদ্ধির সঠিক কারণ খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নামবলম জানিয়েছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে গঠিত টাস্কফোর্স বর্তমানে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করছে।
এস এম/ ২৫ আগস্ট ২০২৬







