দক্ষিণ এশিয়া

দেশের সীমান্তে যে বহিরাগত শক্তি নজর দেবে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না : ভারতীয় সেনা

নয়াদিল্লী, ২৫ ফেব্রুয়ারি – সদ্য সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এরই মধ্যে নয়া হুঁশিয়ারি ভারতের। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনা পরিষ্কার জানিয়ে দিল দেশের সীমান্তে যে বহিরাগত শক্তি নজর দেবে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। তাই প্রতিবেশী দেশ যেন সতর্ক থাকে। উল্লেখ্য বুধবার রাত থেকেই নতুন করে কার্যকর হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি। সেই প্রেক্ষিতেই ভারতের প্রতিক্রিয়া উস্কানি না দিলে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সীমান্তে খবরদারি বরদাস্ত করবে না ভারত।

এদিন সেনার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, পাক সেনা উস্কানি দিলে তবে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করতে বাধ্য হবে ভারত। নয়তো কোথাও কোনও সমস্যা নেই। আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতি সবদিক থেকে পালন করবে ভারত। তবে এর পাশাপাশি এটাও ঠিক, যে সবরকম পরিস্থিতির জন্যই ভারতীয় সেনা তৈরি। তাই সীমান্তে সক্রিয়তা প্রতিবেশী দেশের না দেখানোই ভালো।

সেনা আধিকারিকের দাবি বিগত বছরগুলিতে পাকিস্তানের জন্যই দুদেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। তবে ভারত আশাবাদী প্রতিবেশী দেশের সুমতি হবে। ২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। একাধিকবার সীমান্তে চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি বর্ষণ করেছে পাক সেনা। বাধ্য হয়ে প্রত্যুত্তর দিয়েছে ভারতও।

আরও পড়ুন : ভারতে করোনার নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলেছে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা

দুদিন আগেই সৌজন্যের হাত বাড়িয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয় ভারত। ২৩শে ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা ছিল পাক প্রধানমন্ত্রীর। ক্ষমতায় আসার পর এটা তাঁর দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে আফগানিস্তান সফরে গিয়েছিলেন ইমরান। এই সফরের জন্যই ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে পাকিস্তানের। জানা যায় ১০ দিন আগে ইসলামাবাদ আবেদন করে ভারতের কাছে। সোমবার সকালে আবেদন মঞ্জুর করে ভারত। উল্লেখ্য, এই ধরণের বিমান যাত্রার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চাইতে হয়। সেই প্রোটোকল মেনেই ইসলামাবাদ ভারতের কাছে আবেদন জানিয়ে ছিল।

উল্লেখ্য, যে সৌজন্যের হাত ভারত বাড়িয়ে দিয়েছে, সেই একই কাজ কিন্তু পাকিস্তান করেনি। জম্মু কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা তুলে নেওয়ার পরেই ইসলামাবাদ নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ক্ষেত্রে একবার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে দুবার পাক আকাশসীমা ব্যবহারে সম্মতি দেয়নি পাকিস্তান। ফলে আলাদা রুট ধরে গন্তব্যে পৌঁছতে হয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে।

সূত্র : কলকাতা২৪
এন এইচ, ২৫ ফেব্রুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language