মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে মিসর

কায়রো, ৯ আগস্ট – সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত নতুন এক যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে শীঘ্রই মিসর যুক্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই তিন দেশ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করার পরদিনই তিনি মিসরের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনার কথা জানালেন।

সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করে। বর্তমান বাস্তবতায় ইরান এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে আঞ্চলিক দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষ করে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরের একটি মিসরীয় বন্দরে থাকা মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনাও মিসরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, মিসর এই অঞ্চলের একটি সব বিষয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। তিনি আশা করেন পরবর্তী ধাপে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে যোগ দেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হয়ে গেলেই মিসরের এই জোটে যুক্ত হতে কোনো বাধা থাকবে না।

বর্তমানে মিসর ও তুরস্ক এমনভাবে একে অপরের সাথে কাজ করছে যা অনেকটা জোটের সদস্য হিসেবেই প্রতীয়মান হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান আরও স্পষ্ট করেন যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।

এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে চুক্তি অনুযায়ী কোনো এক সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ফিদান জানান ভবিষ্যতে এই জোটকে আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য দেশকেও এই ছাতার নিচে নিয়ে আসা হবে।

এস এম/ ৯ আগস্ট ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language