উত্তর আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে টান: বড় সংকটের মুখে পেন্টাগন

ওয়াশিংটন, ১ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কয়েক মাসের সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুদ্ধের ময়দানে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহারের ফলে পেন্টাগনের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে বড় কোনো পাল্টা হামলা কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে নতুন সংকট দেখা দিলে নিজেদের ঘাঁটি ও বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখা কতটা সম্ভব হবে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ইন্টারসেপ্টর মজুত ছিল।

তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে ৮২৭টিরও নিচে নেমে এসেছে। একই চিত্র দেখা গেছে টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও। যুদ্ধের আগে যেখানে ৪৫২টি থাড ইন্টারসেপ্টর ছিল, বর্তমানে তা কমে ২৭৮টিরও নিচে ঠেকেছে।

সিএসআইএস সতর্ক করে বলেছে, ব্যবহৃত এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইন্দো প্যাসিফিক বা অন্য কোনো অঞ্চলে নতুন সামরিক সংকট তৈরি হলে বিদেশে থাকা মার্কিন সেনা সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে পেন্টাগন ২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের মধ্য থেকে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার নির্দিষ্টভাবে বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে।

এই অর্থ দিয়ে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়াতে কম দামের গোলাবারুদ সংগ্রহের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। ২০২৭ সালের বাজেট প্রস্তাবে চাহিদাকৃত অস্ত্রের প্রায় অর্ধেকই কম মূল্যের হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এস এম/ ১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button