মধ্যপ্রাচ্য

নিউ ইয়র্ক টাইমসের চাঞ্চল্যকর দাবি নাকচ করলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ

তেহরান, ১৫ জুলাই – ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করেছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী আছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের করা চাঞ্চল্যকর দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলা হয় যে জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন উসকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই নিউইয়র্ক টাইমস এই ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দী করে রাখার দাবিও জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

তার কার্যালয়ের দাবি অনুযায়ী সংবাদপত্রটি নিজেদের অবাস্তব ও কল্পিত প্রতিবেদনের পক্ষে সাফাই গাইতে এই ধরনের অসত্য অভিযোগ সামনে এনেছে।

এর আগে সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ইরানের নেতৃত্বের জন্য সম্ভাব্য একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে এটি ছিল ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তন ঘটানোর বৃহত্তর ইসরায়েলি পরিকল্পনার অংশ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি আরও দাবি করে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও ভ্রমণ খরচের জন্য অর্থ জুগিয়েছে এবং বুদাপেস্ট সফরসহ বিদেশে বেশ কয়েকবার ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায় ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের বাসভবনকে নিশানা করে একটি বিমান হামলা চালায় যাতে তার দেহরক্ষীদের ভবন ও একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ধ্বংস হয় বলে দাবি করা হয়।

ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয় যে হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সরিয়ে নেয়। মোসাদের সদস্যরা গাড়িটি চালিয়ে আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যান এবং তাকে দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে তার মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছিল বলেও সংবাদমাধ্যমটি জানায়।

উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং গত সপ্তাহে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। আহমাদিনেজাদ ওই জানাজায় অংশ নিয়েছেন যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জনসমক্ষে তার প্রথম উপস্থিতি।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদ মূলত একজন কট্টর ইসরায়েল ও মার্কিনবিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত।

এনএন/ ১৫ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language