বয়সকে হার মানিয়ে মেসির অবিশ্বাস্য ফর্ম: ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন

বুয়েনস আইরেস, ১২ জুলাই – লিওনেল মেসির বর্তমান পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের জন্য এক পরম বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়স বাড়লেও শারীরিক সক্ষমতা ও খেলার ধরনে তিনি এখনো তরুণদের সমকক্ষ। এবারের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার পারফরম্যান্স দেখে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পর্যন্ত মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
তার মতে, মেসি বর্তমানে নবীন ফুটবলারদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। পাঁচটি ম্যাচে আটটি গোল করে সাফল্যের শিখরে থাকা এই ফুটবলার প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে বয়সের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা সম্ভব। অনেকে ধারণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসির ধার কমে আসবে।
কিন্তু মেজর লিগ সকারের প্রতিকূল পরিবেশ ও দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সামলেও তিনি নিজেকে সেরা অবস্থানে রেখেছেন। কৃত্রিম টার্ফ ও ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ জয় করে তার এই ফিরে আসা পেশাদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনের মতে, মেসির বর্তমান ফর্ম এমএলএসের গুণগত মানকেও বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
মেসির এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। তার পরিবার ও বিশেষজ্ঞ দল তাকে মাঠের বাইরের যাবতীয় চাপ থেকে মুক্ত রাখে। ইন্টার মায়ামির আধুনিক ফিজিওথেরাপি এবং প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি তাকে শারীরিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার বিষয়টি তার ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতে বড় ভূমিকা পালন করছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেসির সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের মধ্যে। ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে তার গতিতে লক্ষণীয় উন্নতি দেখা গেছে যা ক্রীড়াবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও বিস্ময়কর।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মনে করেন, মেসি মাঠের সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। এমতাবস্থায় ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৪৩ বছর বয়সে ২০৩০ বিশ্বকাপে কি তাকে দেখা যাবে? মেসির অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাম্প্রতিক ছন্দ সেই সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
এস এম/ ১২ জুলাই ২০২৬









