নরওয়ের কাছে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ইঙ্গিত!

নিউ জার্সি, ৬ জুলাই – যে মাঠে শুরু হয়েছিল এক রূপকথার পথচলা, ১৬ বছর পর ঠিক সেই মাঠেই অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর, আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার আভাস দিয়েছেন সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকা মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম, আর এখানেই শেষ করছি।”

নেইমারের এই মন্তব্যকে দেশটির গণমাধ্যম জাতীয় দল থেকে তার আনুষ্ঠানিক বিদায়ের বার্তা হিসেবেই দেখছে। কাকতালীয়ভাবে, ২০১০ সালে এই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই প্রীতি ম্যাচে অভিষেকের মাধ্যমে ব্রাজিলের জার্সিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন নেইমার। ১৬ বছর পর সেই একই ভেন্যুতে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নিয়ে বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন তিনি।
নেইমারের নামের পাশে যোগ হলো এক হতাশার রেকর্ড
নরওয়ের বিপক্ষে ইনজুরি কাটিয়ে ৬৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ম্যাচের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি তিনিই করেন। তবে সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।
এই বিদায়ের সাথে সাথে নেইমারের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে এক পরম হতাশার রেকর্ড। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে থিয়াগো সিলভার পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপার স্বাদ না পাওয়ার তালিকায় নাম লেখালেন তিনি। ট্রফি খরা যেন ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসেও পিছু ছাড়ল না এই জাদুকরের।
সংখ্যার বিচারে নেইমারের রাজকীয় ক্যারিয়ার
যদি সত্যিই এটি ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকে, তবে এক কিংবদন্তি যুগের অবসান ঘটল। ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ৮০টি গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করবেন তিনি।
ক্যারিয়ারে সেলেসাওদের হয়ে ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপই তার একমাত্র সিনিয়র আন্তর্জাতিক শিরোপা। এছাড়া ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ব্রাজিলকে প্রথম ঐতিহাসিক অলিম্পিক স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ও শৈল্পিক এই ফুটবলারের এমন বিদায়ের ইঙ্গিত যেন পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই এক বিষাদময় মুহূর্ত। সাম্বার ছন্দ কি তবে সত্যিই নেইমারকে ছাড়া এগোবে? সময় হয়তো এর উত্তর দেবে।
নেইমারের এই সম্ভাব্য বিদায় কি ব্রাজিলের একটি যুগের অবসান? নেইমারকে ছাড়া আগামীতে কেমন করবে সেলেসাওরা? কমেন্টে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন!
এনএন/ ৬ জুলাই ২০২৬









