পশ্চিমবঙ্গ

আমিই গোলরক্ষক, একুশে খেলা হোক :‌ মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে হুঙ্কার মমতার

কলকাতা, ২২ ফেব্রুয়ারি – কয়লা পাচারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে যে তদন্ত চলছে, তার সূত্রে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ দিল সিবিআই। নোটিশ দেওয়া হয়েছে অভিষেকের শ্যালিকাকেও। তাঁদের দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। এটাকে ‘নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ভয় দেখানোর চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিকে গতকাল একুশে ফেব্রুয়ারির এক অনুষ্ঠানে সিবিআইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যতক্ষণ দেহে প্রাণ রইবে, কোনো ধমকানি বা চমকানিকে আমি ভয় পাই না এবং পাবও না। আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া অত সহজ নয়। আমাকে এই বাংলা শিখিয়েছে বীরের মতো লড়াই করতে। এই একুশেতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বলি, এই একুশেই (২০২১) খেলা হবে, আমি থাকব গোলরক্ষক। কারা জেতে, কারা হারে, আমি তা দেখতে চাই। আমায় যদি জেলে পাঠায়, আমি জেল থেকে বঙ্গবন্ধুর মতো ডাক দেব। জয় বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা, জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম।’

সিবিআই গতকাল বিকেলে অভিষেকের দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী রুজিরা ও শ্যালিকাকে নোটিশ দেয়। এরপর অভিষেক এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে যদি এইগুলি ভয় দেখানোর প্রক্রিয়া হয়, তবে ওঁরা ভুল করছেন। আমাদের ভয় দেখানো যাবে না।’

আরও পড়ুন : জেল – টেলের ভয় দেখাবেন না, ওসব পেরিয়ে এসেছি: মমতা

পাঁচ বছর আগে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকার সারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাকে অভিযুক্ত করেছিল। এ প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘২০১৬ সালে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাদের অর্ধেক এখন বিজেপিতে। এবারে বাড়ির মহিলাদের নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে। এটা না করে বাপের ব্যাটার মতন সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে লড়ুন।’

বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘সিবিআই তার মতো কাজ করছে। অভিযোগ উঠলে বলা হয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। আর না উঠলে বলা হয় দিদি আর মোদির মধ্যে কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে, সব বন্দোবস্ত হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে আমরা রাজনীতি চাই না।’

সিবিআইয়ের এ নোটিশের ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন বিধাননগরের বিশেষ আদালত। তাঁকে সোমবার আদালতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘অমিত শাহকে সমনের পরে এমন কিছু একটা প্রত্যাশিতই ছিল। বিজেপির সব শরিক দল ছেড়ে গিয়েছে। একমাত্র অনুগত রয়েছে সিবিআই (সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) আর ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)।’

এদিকে বিজেপির যুবনেত্রী ও এক নেতাকে মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল ওই নেত্রী পামেলা গোস্বামীর বিউটি পারলারে তল্লাশি চালানো হয়। এমন একটা অবস্থায় আজ পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূল কংগ্রেসও এদিন বিজেপিবিরোধী প্রচার চালাবে। সিবিআই আবার অভিষেকের বাড়ি যায় কি না, সবার নজর থাকবে সেই দিকেও।

সূত্র : প্রথম আলো
এন এইচ, ২২ ফেব্রুয়ারি

Back to top button