
১৮৭৫ সালে বৃটিশ শাসন যখন সিলেট কে বেংগল প্রদেশ থেকে কেটে আসাম প্রদেশে যুক্ত করা হল তখন থেকেই সিলেটি বাঙালীর হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আসামের জনগনের বিরাজ ভাজন হলেন। শ্রীহট্ট বা সিলেট সম্মেলনের তাই শুরু হয়েছিল নিজেদের প্রতিষ্ঠা ও উন্নতী করার জন্য ১০০ শত বছরের আগে। সম্মেলনের অনেক উপকারের মধ্যে নারী শিক্ষার শুরু এবং প্রসার ছিল একটি বিরাট পদক্ষেপ। বহু বছর সিলেট জেলা বেংগলের বাইরে থাকলে ও বাংলা ভাষা চর্চা ও সংস্কৃতি ও অসামপরদায়িক পরিবেশ ছিল একটি অনন্য মূল্যবোধ।
পাক ভারত ভাগ হবার পর সিলেটের এক অংশ ভারতে আর এক অংশ পাকিস্তানে আসে তখন ভারতের বিভিন্ন জেলায় শ্রীহট্ট সম্মেলন করে নিজেদের সক্রিয়তা বজায় রাখার চর্চা করতেন তারা।
পাকিস্তানে সিলেটীরা এই সমিতি বা সম্মেলন চালিয়ে যেতে চাইলে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ খামোখাই সিলেটিদের বিভাজনের আভাস পেলেন। তাই জনাব গিয়াসউদদীন আহমেদ সাহেবের নেতৃত্বে সিলেট সমিতিকে জালালাবাদ নাম করন করা হল। যা আজকে পৃথিবীর বহু দেশে সংঘবদ্ধ হয়েছে।
ভারতের সকল জেলার সিলেট সমিতি ও বাংলাদেশের জালালাবাদ সমিতি গুলি ও অন্যান্য জেলা সমিতি একই ভাবধারায় নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য মিলন মেলা করে আসছেন বহু বছর ধরে।
২০১৫ সালে দক্ষিন কলকাতা সিলেট সমিতির এক ঐতিহাসিক সুন্দর উদ্যোগ আর আমন্ত্রনে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ অতিথীদের উপস্থিতি এটাকে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উন্নীত করে। পরের বছর জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ঢাকায় ও সিলেটে একই ভাবে ভারত ও অন্যান্য জায়গার অতিথিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করে চেতনা জাগিয়েছেন। যেহেতু বাংলাদেশ ও ভারতের বাইরে বহু সিলেটিরা এই রকম ভাবধারায় উদ্ভাসিত তাই ২০১৭ সালে আমরা নিউইয়র্কে একটি বিশ্ব সিলেট সন্মেলনের আয়েজন করি।
নিউইয়র্কের জালালাবাদ সমিতির সম্পাদক জুয়েল চৌধুরির উত্সাহে আমিও যোগদান করি। সভাপতি বদরুল খানের নেতৃত্বে প্রথম বারের মত সমিতির বাইরের থেকে একজন আহ্বায়ক করে এবং ঢাকা থেকে স্যার ফজলে হাসান আবেদকে প্রধান অতিথি করে ৭ হাজারের মত মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল অনুষ্ঠান করা হয়। উল্লেখযোগ্য দুই দিনের এই সম্মেলনে আমেরিকার বহু নামকরা জ্ঞানী গুনি ও প্রজন্ম দের উপস্থিতি ও উৎসাহ সিলেটের সার্বিক উন্নতীর জন্য একটি সহযোগীতার পথ উন্মোচন করে।
তার পরের বছর টরন্টোর জালালাবাদ সমিতির সভাপতি দেবব্রত দে তমালের নেতৃত্বে ২০১৮ সালে আরেকটি বিশাল ৬ হাজার মানুষের উপস্থিতি তে বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে ও সমিতির বাইরে গিয়ে রাশেদা কে চৌধুরী কে আহ্বায়ক করে মান সম্মত সম্মেলন সাড়া জাগায়।
গত বছর কলকাতায় আবার সুন্দর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মিলন মেলার ধারাবাহিকতা রাখার জন্য বিশ্ব সিলেট সম্মেলন কমিটির জন্ম হয় এবং আমাদের উপসথতিতে বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
ভারতের সিলেট সমিতি এবং বাংলাদেশের জালালাবাদ সমিতি ও অন্যান্য জেলা সমিতি বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে সুন্দর নেতৃত্ব দিয়ে মানুষের সহায়তা ও নিজ ঐতিহ্য কে ধারন করছে। সমিতির নির্বাচনের পর নতুন নেতৃত্ব নতুন চিন্তা ধারার প্রবর্তন হতেই পারে। তাই বিশ্ব সিলেট সম্মেলন কমিটি যারা পূর্ববর্তি অভিজ্ঞতায় সিক্ত তারা তা সাথে নিয়ে বিশ্বের ও প্রবাসী সিলেটের নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। সকলের সহযোগীতায় আর সম্পুরক হয়ে জালালাবাদ সমিতি ও ভারতের বিভিন্ন সিলেট সমিতির সাথে একই ভাবে একই সাথে নিজেদের ঐতিহ্য কে তুলে ধরে বিভিন্ন জনকল্যান মুলক কাজ করার জন্য এই পদক্ষেপ।
আমাদের বিশ্ব সিলেট সন্মেলন কমিটির চেয়ারম্যান জনাব তোফায়েল সামী। এবারের আহবায়ক BRAC এর প্রাক্তন vice chairman এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ড: মুশতাকুর রাজা চৌধুরী। জানা দরকার গত বছর করোনা কালে যখন একটি ছাড়া সব হাসপাতাল গুলি বন্ধ করা হল তখন আমরা সিলেটে দুটি করোনা হাসপাতাল পরিচালনা করছি। তাতে বিশ্ব সিলেট বাসীর অবদান ছিল অতুলনিয়। যুক্ত রাজ্যের জালালাবাদ সভাপতি মুহিত সাহাবের নেতৃত্বে আর কানাডা জালালাবাদ এর দেবব্রত দের এবং নিউ ইয়র্কের সদর থানা এসোসিয়েশনের লায়েক আর রনেলের নেতৃত্বে অনেক অক্সিজেন যন্ত্রপাতি প্রদান করছিলেন। নিউইয়র্ক আর কানাডার পূর্ন প্রোগ্রাম দেখলে পরবাস থেকে বিশ্ব সিলেটীদের এই উদৌগ সম্পর্কে ধারনা হতে পারে। আপনাদের মতামত ও সাহায্য আমাদের কে সফল ভাবে আমের ঐতিহ্য একটি অসাম্প্রদায়িক ভাতৃত্বের বাধনে সিলেটের মানুষের হ্রদয় কে স্পর্শ করা।









