জাতীয়

আ.লীগের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার, রিমোট কন্ট্রোলে চলছে আদালত – হাসনাত আবদুল্লাহ

ঝিনাইদহ, ২৫ মে – জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ঐক্যের স্বপ্ন দেশবাসী দেখেছিল, তা কি তবে কর্পূরের মতো উড়ে যাচ্ছে? রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে, ঝিনাইদহের সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি মামলার জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরাসরি বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। তারা পুলিশকে জনগণের বাহিনী না বানিয়ে, নিজেদের দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চাইছে।”

সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) বিকেল ৬টায় ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহর আক্রমণের মূল নিশানা ছিল দেশের বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন, “স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ শুরু হয়ে গেছে। জেলা আদালতগুলোতে কী রায় হবে, কী বিচার হবে, আর কে জামিন পাবে—সব কিছু এখন আর আদালতের ইচ্ছায় হচ্ছে না। রিমোট কন্ট্রোলের মতো সবকিছু ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”

ঝিনাইদহ জেলাটি খোদ আইনমন্ত্রীর জেলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তার অভিযোগ, আইন আদালতের চাবিকাঠি এখন সরকারের একটি নির্দিষ্ট মহলের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে।

“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল পুলিশ হবে জনগণের। কিন্তু অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখন প্রকাশ্যেই নির্দিষ্ট দলের সমর্থক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন।”
— হাসনাত আবদুল্লাহ

ঝিনাইদহের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত গত শুক্রবার (২২ মে)। সেদিন ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও জেলা ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় এবং উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা ঠুকে দেয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এনসিপির মামলাটি গ্রহণ করতে পুলিশ দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বসিয়ে রাখলেও, ছাত্রদলের মামলাটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রেকর্ড করা হয়। শুধু তাই নয়, ছাত্রদলের করা সেই মামলায় গত রোববার এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। (অবশ্য সোমবার সকালেই তারেক রেজা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন)। এই পক্ষপাতমূলক গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদ জানাতেই সোমবার ঝিনাইদহে সশরীরে হাজির হন হাসনাত আবদুল্লাহ।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি নির্মম চিত্র তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজ যখন আমরা (বিএনপি-এনসিপি) মাঠপর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, তখন ভারতে বসে আওয়ামী লীগ হাততালি দিচ্ছে আর হাসছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এটা হওয়ার কথা ছিল না।”

তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ধরনের দলীয়করণ ও জুলুমের কারণেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়েছে। বর্তমান সরকারও যদি একই ভুল করে, তবে দেশের মানুষ তা মুখ বুজে সহ্য করবে না। জেল-জুলুমের ভয় দেখিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে দমানো যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পায়রা চত্বর থেকে এনসিপির ব্যনারে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য জামিনে মুক্ত নেতা তারেক রেজা ও মুখ্য সমন্বয়ক রিফাত রশিদসহ স্থানীয় এনসিপির শত শত নেতাকর্মী।

এনএন/ ২৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language