নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস, টিসিবির পণ্যের জন্য দীর্ঘ লাইন

ঢাকা, ১৫ মে – নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। ভোজ্যতেল, ডিম, চিনি ও সবজিসহ প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশেহারা। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় মানুষ এখন সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের ট্রাকসেলের ওপর নির্ভর করছেন।
তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেককেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবির ট্রাকগুলোতে পণ্য বিক্রি শুরুর অনেক আগে থেকেই শত শত মানুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নিউমার্কেট এলাকায় পণ্য কিনতে আসা গৃহিণী শান্তা আক্তার জানান, বাজারের ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে আগের তুলনায় অর্ধেক বাজার করতে হচ্ছে।
সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে একটু কম দামে ডাল ও তেল কিনতে তিনি টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে আসাদগেটসহ অন্যান্য এলাকাতেও। রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষ সবাই এখন টিসিবির লাইনে সাশ্রয়ের পথ খুঁজছেন।
টিসিবির বিক্রেতারা জানিয়েছেন,
- প্রতিটি পয়েন্টে প্রায় ৪০০ জনের মতো ক্রেতাকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
- কিন্তু উপস্থিত ক্রেতার সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় দুপুর হওয়ার আগেই পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে।
- ডিলারদের দাবি, এলাকাভিত্তিক পণ্যের বরাদ্দ বাড়ানো হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা আরও বেশি মানুষকে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
- আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হওয়া টিসিবির এই কার্যক্রমে একজন ক্রেতা চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন।
- বর্তমানে চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ডাল ৭০ টাকা এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
- এই প্যাকেজটি বাজার দরের তুলনায় প্রায় ২৫০ টাকা সাশ্রয়ী হওয়ায় ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে খুচরা বাজারে স্বস্তি নেই কোনো পণ্যেই। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি হালি ৫০ টাকায় পৌঁছেছে এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো জরুরি।
এস এম/ ১৫ মে ২০২৬









