জাতীয়

যে কারণে একুশে পদক পেলেন ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি – মহান ভাষা আন্দোলনে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ এ বছর মরণোত্তর একুশে পদক পেলেন ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তার অবদানের এই স্বীকৃতি দীর্ঘদিন পরে হলেও এক অনন্য গৌরব ও আত্মতৃপ্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় এম শামসুল হক ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দমোহন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের ঢেউ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা থেকে আনন্দমোহন কলেজেও পৌঁছায়। সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় শামসুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীর্ঘ ছয় মাস কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে তাকে বন্দা করে রাখা হয়। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি ময়মনসিংহ শহরে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

এম শামসুল হক ১৯৩০ সালের ২৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা অ্যাডভোকেট সমীর উদ্দিন ছিলেন একজন নামকরা আইনজীবী।

আরও পড়ুন : বেগম জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে : ফখরুল

ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক ১৯৬৬র ছয় দফা, ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৫৪র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭০ সালের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৮৮ সালে তিনি ফুলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ব্যাপক জনপ্রিয় ও অবিসংবাদিত এই নেতা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

তার স্ত্রী আম্বিয়া খানম একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা। তার পুত্র শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর) সংসদীয় আসন থেকে ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের মন্ত্রিসভায় শরীফ আহমেদ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দশম জাতীয় সংসদের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৫ সালের ২৭ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ভাষা সৈনিক এম শামসুল হক পরলোক গমন করেন। তারাকান্দা উপজেলার বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন এই কীর্তিমান পুরুষ। তার কীর্তিকে স্মরণ করে ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল সংলগ্ন স্থানে ভাষা সৈনিক শামসুল হক মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

সূত্র : পূর্বপশ্চিমবিডি
এন এইচ, ২০ ফেব্রুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language