আইন-আদালত

ছাত্র আন্দোলনে অর্থ জোগান ও নাশকতার অভিযোগ: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ফের রিমান্ডে!

ঢাকা, ৮ মে – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নে সরাসরি অর্থ জোগান এবং নাশকতায় নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

আগের দফায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আজ আফজাল নাছেরকে পুনরায় আদালতে হাজির করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারের স্বার্থে তাকে আরও ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালত মনে করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদনের সপক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:

১. অর্থের উৎস ও সরবরাহ: শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তার উৎস এবং কোন কোন খাতে সেই অর্থ বণ্টন করা হয়েছে, তা উদ্ঘাটন।
২. পরিকল্পনাকারী শনাক্তকরণ: সরাসরি রাজপথে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের নেপথ্যে যারা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করা।
৩. অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতার: আন্দোলনে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেফতার নিশ্চিত করা।

তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, আফজাল নাছের বিগত সরকারের অন্যতম সহযোগী বা ‘দোসর’ হিসেবে কাজ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং অর্থায়নে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু সংবেদনশীল তথ্য দিয়েছেন, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে অগণিত প্রাণহানি ও দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে যে তীব্র জনমত তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আফজাল নাছেরের মতো উচ্চপদস্থ সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার বিষয়টি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রিমান্ডের মাধ্যমে আন্দোলনের সময়কার অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে এবং নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ খুলে পড়তে পারে।

এনএন/ ৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language