ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে বড় রদবদল: পতনের মুখে মমতা-স্ট্যালিন-বিজয়ন

কলকাতা, ৪ মে – ২০২৬ সালের ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথে দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রবিবারের ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরালার মতো শক্তিশালী রাজ্যগুলোতে বর্তমান শাসক দলগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পথে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের দিকে সারা দেশের নজর থাকলেও, সামগ্রিক ফলাফলে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য স্পষ্ট। এই জয় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণ তৈরি করল। দক্ষিণ ভারতেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। তামিলনাড়ুর প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির ছক ভেঙে ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম।
কয়েক দশকের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বিমুখী আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে চেন্নাইয়ের কুর্সিতে বসার পথে রয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। কেরালাতেও ক্ষমতার পালাবদলের ঐতিহ্য বজায় রেখে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম সরকারকে সরিয়ে জয়ের পথে রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ।
অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বের রাজ্য অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। আঞ্চলিক দলগুলোর এই বিপর্যয়ের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।
বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা এমকে স্ট্যালিনের অনুপস্থিতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের পথকে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দিল্লি ও বিহারের পর ২০২৬-এর এই ফলাফল ভারতের অ-বিজেপি রাজনীতিকে এক গভীর অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিয়েছে।
এস এম/ ৪ মে ২০২৬









