হরমুজ প্রণালি বন্ধ: জ্বালানি সংকটে টালমাটাল বিশ্ববাজার

তেহরান, ২ মে – বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
শিল্প খাতের বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও তীব্র হবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে মজুত থাকা জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে আসাই এর মূল কারণ। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই পথে যেখানে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হতো, গত এপ্রিলে তা কমে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
কেপলারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জুন মাসের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে, তবে বাজারের ভারসাম্যহীনতা পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে দেশগুলো এখন মজুত জ্বালানি ব্যবহার ও চাহিদাকে সীমিত করার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এক্সন এর সিইও ড্যারেন উডস শেয়ারহোল্ডারদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এতদিন ট্রানজিটে থাকা তেলবাহী জাহাজ এবং বিভিন্ন দেশের আপদকালীন মজুত ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও এখন সেই মজুত ফুরিয়ে আসছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মজুত গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর তথ্যানুসারে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বর্তমানে ৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রতিদিন মাত্র ১০টিরও কম জাহাজ এই পথ অতিক্রম করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর থেকে এই অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এস এম/ ২ মে ২০২৬









