বাস ও লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে যাত্রী প্রতিনিধি রাখার দাবি

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল – বাস ও লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে যাত্রী ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এই দাবি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ রবিউল আলমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি। রোববার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সমিতির অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ভাড়া নির্ধারণে মালিকপক্ষ ও সরকারের বর্তমান নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিগত সরকার এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়ক ও নৌযোগাযোগ খাতে বেসরকারি বাস ও লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে ভাড়া ও নীতি নির্ধারণের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে এই খাতে যাত্রী দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সময়েও জনস্বার্থের চেয়ে প্রভাবশালী মালিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভাড়া নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ কোনো ব্যক্তি বা প্যানেল অতীতেও ছিল না এবং এখনো নেই। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তাদের মর্জিমতো ভাড়ার তালিকা তৈরি করেন।
যা মন্ত্রণালয়ে পেশ করে একচেটিয়া প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারের উচিত জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস ও লঞ্চ ভাড়া নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ভোক্তা অধিকার আইন অনুসরণ করা। এ লক্ষ্যে বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সংখ্যানুপাতে যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে ভাড়া নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এস এম/ ১৯ এপ্রিল ২০২৬









