আইন-আদালত

ট্রাইব্যুনালে আইএসপিএবি সভাপতির সাক্ষ্য: সরকারের সিদ্ধান্তেই বন্ধ ছিল ইন্টারনেট

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল – জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সরকারের সিদ্ধান্তেই সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা আইএসপিএবি এর তৎকালীন সভাপতি মো. ইমদাদুল হক মোল্লা।

রোববার ট্রাইব্যুনাল ১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সজীব ওয়াজেদ পলাতক থাকলেও পলককে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জবানবন্দিতে অপটিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের পরিচালক ইমদাদুল হক মোল্লা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগার পর বিকেল চারটা থেকে কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। এরপর রাত আনুমানিক নয়টার দিকে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ স্তরে কাজ করে উল্লেখ করে তিনি জানান, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে বা আইআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কোম্পানি বা আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তখনই তারা বুঝতে পারেন যে, মূলত সরকারের নির্দেশেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মহাখালীর ওই ভবন পরিদর্শনে আসেন। সেখানে আইএসপিএবির সভাপতি হিসেবে ইমদাদুল হকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুরোধ জানালে প্রতিমন্ত্রী সেদিনই সংযোগ চালুর আশ্বাস দেন। তবে পলক সেসময় উপস্থিত সকলের উদ্দেশে দাবি করেছিলেন, ডাটা সেন্টারে আগুন লাগার কারণেই ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে।

ইমদাদুল হক এই দাবিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য বলে আখ্যায়িত করেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। ভবনের বাইরের কিছু ফাইবার অপটিক কেবল পুড়ে গেলেও দেশজুড়ে থাকা আরও ১৫ থেকে ১৬টি ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব ছিল।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী সাক্ষীকে জেরা করেন।

এনএন/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language