ভালুকায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ছেলের গুলিতে বাবা গুরুতর আহত

ময়মনসিংহ, ১২ এপ্রিল – ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ছেলের ছোড়া গুলিতে বাবাসহ দুজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রোববার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নারিশ কোম্পানির গেইট সংলগ্ন স্থানে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
আহত খোকা মিয়া ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার আব্দুল মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালটির পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি দ্বন্দ্বে আহত অবস্থায় খোকা মিয়া নামের একজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয়দের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাবা খোকা মিয়া বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সমর্থক ছিলেন। অন্যদিকে তার ছেলে রানা মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে কাজ করতেন। এই রাজনৈতিক ভিন্নমত নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই তীব্র বিরোধ চলে আসছিল।
রোববার দুপুরে নির্বাচনের পর থেকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নারিশের মোড়ের একটি রাজনৈতিক কার্যালয় হঠাৎ করে খুলে বসেন ছেলে রানা। বিষয়টি নজরে এলে বাবা খোকা মিয়া তাকে কার্যালয়টি বন্ধ করতে বলেন। এতে বাবা ও ছেলের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে রানা হঠাৎ তার বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। একই সঙ্গে রানার পক্ষের লোকজন খোকা মিয়ার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা চেয়ার ও টেবিল ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে খোকা মিয়ার বুকে গুলি লাগায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাবা ও ছেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনায় মোট দুজন আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে বাবার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুরো ঘটনার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এনএন/ ১২ এপ্রিল ২০২৬









