আইন-আদালত

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় জবি শিক্ষক ও তার বাবাকে মারধর, আজ শুনানি

ঢাকা, ১২ এপ্রিল – ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরবর্তী শুনানি আজ রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গ্রেফতারকৃত আসামি এহসানুর হক মাহিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানভীর আহমেদ শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনজীবী খালিদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ মাহিমকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং আজকের তারিখে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

ভুক্তভোগী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মাহিম তাদের বাড়ির গলিতে প্রায়ই আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। তার বাবা ৬৭ বছর বয়সী মো. নজরুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক এলাকায় বসতবাড়ির সামনে মাহিম আড্ডা দেওয়ার সময় নজরুল ইসলাম তাকে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহিম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তাকে মাটিতে ফেলে শারীরিক নির্যাতন করেন। এতে তার বাম চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। এ সময় শিক্ষক রাইসুল ইসলাম বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নেওয়া হলেও পরে গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।

শুক্রবার আদালতে আসামিকে হাজির করার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এনএন/ ১২ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language