সহযোগীদের আগাম আইনি সুরক্ষা দিতে ট্রাম্পের গণক্ষমার পরিকল্পনা

ওয়াশিংটন, ১১ এপ্রিল – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য আইনি জবাবদিহি থেকে আগাম সুরক্ষা দিতে ব্যাপকভাবে ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে ক্ষমা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি এক বৈঠকে তিনি ওভাল অফিসের কাছাকাছি কর্মরত সবাইকে ক্ষমা করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রশাসনের শেষ সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে গণক্ষমা ঘোষণা করা যায় কি না, তা নিয়েও তাঁর ভাবনা রয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প এসব কথা মূলত রসিকতা করেই বলেছেন। প্রেসিডেন্টের ক্ষমার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ হলেও এসব বক্তব্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি দাবি করেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও দণ্ড মওকুফ করার অধিকার রাখেন। এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে সহযোগীদের আগাম আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের ফলে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে আইনি দায়মুক্তি পেলেও তাঁর সহযোগীদের এই সুরক্ষা নেই। ফলে তাঁদের রক্ষায় ক্ষমা ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ইতিপূর্বে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদকালে ঘনিষ্ঠ সহযোগী, নির্বাচনী অনুদানদাতা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ক্যাপিটল দাঙ্গায় জড়িত সমর্থকদের ক্ষমা করেছেন। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাঁর মেয়াদের শেষ দিকে পরিবারের একাধিক সদস্য এবং ড. অ্যান্থনি ফাউচি ও জেনারেল মার্ক মিলিসহ কয়েকজনকে আগাম ক্ষমা দেন।
ট্রাম্প এর আগে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গার পরও গণক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি এবং পরে এ নিয়ে তিনি অনুশোচনাও প্রকাশ করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ক্যাপিটল দাঙ্গায় জড়িত প্রায় পনেরো শ ব্যক্তিকে ক্ষমা করা।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









