হরমুজে মাইন বসিয়ে বিপাকে ইরান, অবস্থান চিহ্নিত করতে ব্যর্থ সেনারা

তেহরান, ১১ এপ্রিল – গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। শত্রু দেশের জাহাজ চলাচলে সতর্কতা জারির পাশাপাশি সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে প্রণালিজুড়ে মাইন স্থাপন করে ইরানি বাহিনী। তবে বর্তমানে এসব মাইনই ইরানের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানি সেনারা মাইনগুলো কোথায় স্থাপন করেছিল তা এখন আর চিহ্নিত করতে পারছে না।
এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পশ্চিম এশিয়ার এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পানিতে মাইন স্থাপন এবং তা অপসারণের জন্য যে উন্নত কৌশল ও দক্ষতার প্রয়োজন, ইরানের তা নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ছোট নৌকার মাধ্যমে হরমুজে মাইন স্থাপন করে ইরান।
কেবল একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছে, যেখান দিয়ে অনুমতি সাপেক্ষে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করছে। ইরানের গার্ড বাহিনী একটি নিরাপদ পথের মানচিত্র প্রকাশ করলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, মাইনগুলো এলোমেলোভাবে বসানো হয়েছিল। পানির স্রোতে এগুলো আগের অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থলভাগের তুলনায় পানিতে মাইন স্থাপন এবং তা অপসারণ করা অত্যন্ত জটিল।
মার্কিন বাহিনীরও পানি থেকে মাইন সরানোর বিশেষ কৌশল নেই, তারা মূলত মাইন অপসারণ সক্ষমতাসম্পন্ন উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের ওপর নির্ভরশীল। গত মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে শনিবার পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে অংশ নেবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









