জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ এপ্রিল – পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিশ্বে জ্বালানিসংকট সহজে কাটবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার নবম ভারত মহাসাগরীয় কনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক উত্তাল সময় পার করছে এবং এই সংকট দেশগুলোর অর্থনীতি ও সমাজকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এমন পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। একে অপরের প্রয়োজন অনুধাবন করে সম্মিলিত সম্পদকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কাঠামো নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রচলিত ধারণাগুলো দ্রুত বদলাচ্ছে।
তাই সামাজিকভাবে প্রান্তিক ও পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং উন্নয়নের অর্জনগুলো কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এমএসএমই খাতের বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী একটি সুপার সোর্সিং হাব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। এর প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা।
একই সঙ্গে দেশের জেলা ও উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্থানীয় উদ্ভাবনকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই পথ তৈরি করতে ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির নানা দিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
তাই তরুণ ও উদ্যোক্তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিজেদের সক্ষমতা ও সুযোগগুলোকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। সব খাতে উদ্ভাবনী কাজে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করার দিকেও তিনি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সমন্বয়মূলক পদক্ষেপগুলো নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানান ড. খলিলুর রহমান।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









