জাতীয়

জামুকা বিল পাস, স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে থাকল জামায়াতসহ তিন দলের নাম

ঢাকা, ৯ এপ্রিল – তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বা জামুকা বিল সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আপত্তি জানান দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তবে তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এই বিলের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে এই বিলের ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা উল্লেখ করেন, অধ্যাদেশটি কোনো পরিবর্তন ছাড়া পাস হলে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী এবং নেজামে ইসলামের মতো দলগুলো স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবেই থেকে যাবে। এটি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির লক্ষণ।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এই অধ্যাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সহযোগী এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন।

বিলের ওপর আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা চেয়েছিলেন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর শাসকরা তা ভুলে গিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জামুকা আইনের এই সংজ্ঞায় দলগুলোর নাম স্বাধীনতার পর কিংবা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি করেছিল এবং বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

শফিকুর রহমান সংসদে আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে কার কী ভূমিকা ছিল তা ইতিহাস নির্ধারণ করবে। তারা চান দেশের রাজনীতি সুস্থ ধারায় ফিরে আসুক এবং জাতি বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাক।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো আপত্তি নেই। এরপর তিনি বিলটি কণ্ঠভোটে দেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও স্পিকার জানান যে বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক আপত্তি নেই, তাই বিলটি কণ্ঠভোটে সরাসরি পাস হয়ে যায়।

এনএন/ ৯ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language