আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, ঘোষণার অপেক্ষায় ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা, ৯ এপ্রিল – জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবেন।প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। যাচাইবাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয় ৩০ জুন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেনসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও আসামি করা হয়েছে।
আসামির তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীমসহ সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের একজন নেতা। অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর শুনানি শেষে ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ তারকা সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তিতর্ক চলে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।
উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া শহীদদের পরিবার এবং আহতরা এখন এই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এনএন/ ৯ এপ্রিল ২০২৬









