মধ্যপ্রাচ্য

গাজার আল-মাওয়াসি শিবিরে তীব্র পানিসংকট, এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার

গাজা, ৮ এপ্রিল – গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মাওয়াসি শিবিরে বর্তমানে এক ফোঁটা নিরাপদ পানির জন্য তীব্র সংগ্রাম চলছে। ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য বেঁচে থাকার এই লড়াই এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ দুই বছর আগে রাফাহ থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সাত সন্তানের জনক নওয়াফ আল-আখরাস প্রতিদিন ভোরে তার বড় ছেলেকে নিয়ে পানির সন্ধানে বের হন। তাঁবু থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি ওয়াটার ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের পৌঁছাতে হয়।

সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে প্রচণ্ড রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র দুই জেরিক্যান পানি সংগ্রহ করতে পারেন তারা। এই সামান্য পানি দিয়ে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব। এতা নামের একটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি অর্থায়নের অভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। আগে পানির ট্রাকগুলো সরাসরি তাঁবুর কাছাকাছি আসলেও এখন আর আসছে না। নওয়াফ আল-আখরাস জানান যে আগে তারা ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পেয়েছেন আর এখন তৃষ্ণার্ত রেখে তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সামনে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার লোনা ও দূষিত পানি পান করছে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত শনিবার আল-মাওয়াসিতে কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন যে পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলি বাধা এবং জ্বালানিসংকটের কারণে পানির পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

একসময় কৃষিনির্ভর এই এলাকাটি এখন গাজার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে যে গাজায় পানির প্রাপ্যতা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে। নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে পানিকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন। এর ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এস এম/ ৮ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language