জাতীয়

ব্যাংক থেকে সরকারের বিপুল ঋণ গ্রহণ, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল তিন মাস আগেই

ঢাকা, ৮ এপ্রিল – বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবাহ কম থাকলেও সরকার বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করছে। এর ফলে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই পুরো বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এবার ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার প্রতিবছরই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। এবার বিভিন্ন কারণে খরচ বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও আশানুরূপ ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারের ঋণ চাহিদা মেটাতে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে নিয়মিত নিলাম ক্যালেন্ডারের বাইরে বিশেষ নিলাম ডাকতে হচ্ছে। বিশেষ নিলাম ডেকে গত ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার এবং ৮ এপ্রিল আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার জন্য বিশেষ নিলাম ডাকা হয়েছে।

ফলে অর্থবছর শেষে এই ঋণের পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। আগের অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার ওই সময় ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত নেওয়া ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ স্থিতি বেড়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার নয় মাসে নিয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এর ফলে এই খাতে ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকায়। অর্থবছরের শুরুর দিকে সরকারের ঋণ চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। গত অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ বেশি করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে চলতি বছরের জানুয়ারির মতো ফেব্রুয়ারি মাসেও বেসরকারি খাতে মাত্র ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের এই সংকোচন বিনিয়োগ উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা উচ্চ সুদহার ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত কার্যত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে যা এক বছর আগে ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

এস এম/ ৮ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language