মধ্যপ্রাচ্য

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা: ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দাবি

ইসলামাবাদ, ৮ এপ্রিল – আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তবে ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবে এমন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করলেও তা যথেষ্ট ভালো নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ১০ দফা পরিকল্পনায় বেশ কিছু প্রধান দিক রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হবে।

এর পাশাপাশি একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল তৈরির দাবিও জানানো হয়েছে যা প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে। তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

মিত্রশক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর চলমান হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তির বিষয়েও জোরালো শর্ত দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাব প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবিও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তার শর্তে ইরান জানিয়েছে যে ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক রেজোল্যুশন হিসেবে পাস করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।

এনএন/ ৮ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language